বেসরকারি
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি বুধবার ভার্চুয়াল এই সংলাপ আয়োজন
করে।
সংলাপে
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “একদিকে জিএসপি প্লাস সুবিধা
পাওয়াটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আবার সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং
আইনগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।
“আমাদের দেশের জন্য এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শ্রম আইনগুলোর
বাস্তবায়ন দরকার। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা জিএসপি প্লাসের প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপও নিতে সক্ষম হব।”
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল
দেশের কাতারে উঠতে যে শর্ত দরকার, তা পূরণ করায় আবেদন করার যোগ্য হিসেবে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।
উন্নয়নশীল
দেশের কাতারে উঠলে নানা দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত হলেও এখন পাওয়া
বাণিজ্যিক নানা সুবিধা হারাতে হবে।
সংলাপে
মূল প্রবন্ধে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “ইউরোপিয়ান
মার্কেট বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে
বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে ‘জিএসপি প্লাস সুবিধা’ পাওয়া।
“সেটি
পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হল শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার জায়গাটিতে সর্বোচ্চ
গুরুত্ব দিতে হবে।”
সেক্ষেত্রে
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও এর বিধানগুলো প্রতিপালনের উপর জোর দেন তিনি।
মোয়াজ্জেম বলেন, “বিগত আট বছর ধরে বাংলাদেশে শ্রম আইনে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে।
কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও
যেগুলো করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে এ নিয়ে
একটি কর্মপরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ করছে।”
শ্রম
আইন ও শ্রম বিধানের কিছু জায়গায় সংস্কার, একই সাথে কর্মক্ষেত্রে নারীদের হয়রানির
বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা, শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত সময়ের মধ্যে
বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, ফ্যাক্টরিগুলোর সেইফটি ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো, শ্রমিকের
ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের সুপারিশ তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে।
২০১৩
ও ২০১৮ সালের শ্রম আইনের কিছু দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক
সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “করোনার সময় আমরা
দেখলাম আইনের মারপ্যাঁচ দিয়ে কীভাবে শ্রম সময়টা বাড়িয়ে দেওয়া হল। বলা হল- করোনায়
যারা অনুপস্থিত থাকবেন, তারা ৬৫ শতাংশ বেতন পাবেন আর যারা কাজ করবেন তারা শতভাগ
বেতন পাবেন।
“ফলে
যারা কাজ করবেন, তাদের চাপটা কী পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা আমরা দেখলাম। শ্রম
আইনে কী আছে আর তা কীভাবে মানা হচ্ছে, সেটা আসলে মনিটর করবে কে?
শ্রমিকরা
এখন ভয় পায় যে, শ্রম আইন তাকে সুরক্ষা দেবে কি? তারা মনে করে তাদের অধিকারগুলো খড়গ
হয়ে গেছে।”
ন্যূনতম
জাতীয় মজুরি না থাকার বিষয়টি তুলে রতন বলেন, “ন্যাশনাল মিনিমাম ওয়েজটা হচ্ছে না।
আমাদের ৪৩টি সেক্টরের ওয়েজ আছে। কিন্তু ২০১৩ সালের পর থেকে ৩২ সেক্টরে কোনো
ওয়েজবোর্ড হয়নি। শ্রম আইনের ১৪০ ধারায় থাকলেও তা কি ধারণ করছে কর্তাব্যক্তিরা? তাহলে
আইন কতটুকু মানা হচ্ছে?”
শ্রম
আদালত আশা-ভরসার পরিবর্তে বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাসদের এই
নেতা।
“২০
হাজার মামলা পেন্ডিং রয়েছে লেবার কোর্টে, রয়েছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। বহু সমস্যায়
জর্জরিত লেবার কোর্ট। শ্রম আইনের ৩৩২ ধারায় নারী প্রতি হয়রানির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে
উল্লেখ করা হয়নি”
বিজিএমইএর
সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও বাস্তবতার
নিরিখেই শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
শ্রম
আইনের ৩৩২ ধারার ব্যাখা, শ্রমিকদের বয়সের বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ, শ্রম আদালতের সীমাবদ্ধতা
দূর করার উপর জোর দেন তিনি।
সংলাপে
আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বিকেএমইএর প্রথম
সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী
আশিকুল আলম প্রমুখ।