বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন বাইডেন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন কমলা হ্যারিস।
অভিষেকের পরপরই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন বাইডেন ও হ্যারিস।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, তাদের অভিষেক ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন এ সময়ে এক পা এগিয়ে যাওয়া’।
‘‘এটা যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যইও বড় মুহূর্ত। যাদের যৌথভাবে একই এজেন্ডা রয়েছে।”
বাইডেন ও হ্যারিসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইটও করেছেন জনসন।
আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেন, ‘‘আজ আয়ারল্যান্ডের একজন প্রকৃত বন্ধু জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। আমি আমাদের দুই মহান দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার অপেক্ষায় আছি।
‘‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিনও বটে। কারণ, আজ প্রথম কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রার্থনা করি, আগামী দিনগুলোতে তারা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন তার সেগুলোতেই সাফল্য অর্জন করবেন।”
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুজেপে কোন্তে বলেন, ‘‘এটা গণতন্ত্রের জন্য দারুণ এক দিন। যেটা আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পৌঁছে যাচ্ছে।”
Congratulations to @JoeBiden on being sworn in as President of the United States and to @KamalaHarris on her historic inauguration. America’s leadership is vital on the issues that matter to us all, from climate change to COVID, and I look forward to working with President Biden.
— Boris Johnson (@BorisJohnson) January 20, 2021
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, ‘‘এখন সময় একই সঙ্গে কাজ করার…যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। আমরা সব সময় সব বিষয়ে একমত হতে পারবো না কিন্তু আমরা কখনোই সঙ্কটের সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা ছেড়ে দিতে পারি না।”
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নেতৃত্ব দেশে শান্তি, সংহতি, পারষ্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতির বাতাবরণ ফিরিয়ে আনুক, ঈশ্বরের কাছে সেই কামনা করে বাইডেন ও হ্যারিসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মোকাবেলা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ুসহ নানা ইস্যুতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আরবদের শান্তি প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে নেওয়ার কামনায় বাইডেন ও হ্যারিসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প আমলের অন্যায় নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়েছে। আর ট্রাম্পের ইসরায়েল ঘেঁষা নীতির কারণে তার বিদায়ে কোনও দুঃখবোধ নেই বলেও জানিয়েছে তারা।
বেলারুশ আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও উন্নত সম্পর্ক গড়ার আশা নিয়ে বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানিয়েছে।