ক্যাটাগরি

গৃহকর্মীর হাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা হতবিহ্বল

ঢাকার মালিবাগে ওই বৃদ্ধাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গৃহকর্মী রেখা আক্তারকে (২৮) ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ বলছে, স্বামীর প্ররোচনায়ই
গহনা লুট করার জন্য ওই কাণ্ড ঘটিয়েছেন রেখা।

নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই বৃদ্ধার মেয়ে মেহবুবা জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রেখার হাতে এমনভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় আমার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। শুধু বলেন- ‘রেখা আমাকে এভাবে……’।”

মালিবাগের এক বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে গত ১৮ জানুয়ারি বৃদ্ধাকে নির্যাতনের ওই ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। টেলিভিশনে খবর প্রকাশের পর সেই ভিডিও পরে দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

মেহবুবা বলেন, রেখা তাদের বাড়ির নিচে গড়ে তোলা  টিনশেডে অনেক দিন ধরে ভাড়া থাকে এবং তার বাসায় কাজ করত। রেখার
বাসা ভবনের নিচেই হওয়ায় তিনি সবসময় তাদের ফ্ল্যাটেই থাকতেন এবং তার বৃদ্ধা মার দেখাশোনা করতেন।

তিনি বলেন, সেদিন এক ঘণ্টা খালি
বাসা পেয়েছিলেন রেখা, আর তখনই ওই কাণ্ড ঘটান।

মেহবুবা বলেন, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায়
তিনি বরিশাল গিয়েছিলেন। বাসায় রেখে গিয়েছিলেন বড় বোন দিলরুবা জামানকে।

“সেদিন (১৮ জানুয়ারি) বড় বোন
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যাংকে যান এবং সাড়ে ১০টায় বাসায় ফিরে দেখেন বৃদ্ধা মাকে
রেখা…।”

মেহবুবা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
তার মায়ের অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই ভালো। তবে লাঠি আঘাতের স্থানে এখনও ব্যথা অনুভব করেন।

রেখাকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা বেতন
দেওয়া হত জানিয়ে মেহবুবা বলেন, করোনাভাইরাস
সঙ্কটকালেও তাকে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

গৃহকর্মী হিসেবে রেখা ভালো কাজ
করতেন এবং তার ব্যবহারেও কোনো ত্রুটি আগে চোখে পড়েনি মেহবুবার।

“রেখার কাজ এত সুন্দর ছিল! খুব ভালো রান্নাও করত। সে আমাদের মন জয় করে নিয়েছিল। মা আর আমার নয় বছর বয়সী মেয়ে তো রেখা বলতে পাগল ছিল।”

স্বামীর প্ররোচনায়: পুলিশ

ঘটনার পর ২০ জানুয়ারি ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গি থানার সীমান্তবর্তী কাশিপুর এলাকা থেকে রেখাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রেখার স্বামী এরশাদকেও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরশাদের কাছে দুটি লুণ্ঠিত গহনা, দুল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “রেখা এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। রেখাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বামীর প্ররোচনায় সে এ কাজ করেছে। টাকার জন্য এরশাদ চাপ দিত রেখাকে।”

ঢাকার শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৭৫ বয়সী ওই বৃদ্ধাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে আলমারির চাবির জন্য বুকের উপরও চেপে বসেছিল।

“চাবি পাওয়ার পর আলমারি খুলতে না পেরে আহত বৃদ্ধাকেই টেনে নিয়ে বাধ্য করে আলমারি খুলে দিতে। ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল সবই নিয়ে নেয় রেখা। পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।”

মেহবুবা মামলার এজাহারে বলেছেন, রেখা তার মাকে নির্যাতন করে বাসা থেকে ২ লাখ টাকা, তিনটি সোনার চেইন, চার জোড়া সোনার বালা, চার জোড়া কানের দুল, একটি টেলিভিশনসহ প্রায় ১৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার রেখাকে ঢাকা আনা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, তাকে আদালতে তোলা হবে।