রোববার ১০ টাকা ২০ পয়সা দাম বেড়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের। সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৮ শতাংশ লেনদেনও ছিল এই কোম্পানির শেয়ারের।
কোভিড-১৯ টিকা আনার পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সানোফি গ্রুপের হাতে থাকা সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডের ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ার কিনে নিতে চুক্তি করেছে, যে খবরটি রোববারই ডিএসইর ওয়েবসাইটে জানানো হয়।
বাংলাদেশে সানোফির ব্যবসা কিনে নিচ্ছে বেক্সিমকো
এরপর সকাল থেকে দাম বাড়তে থাকে বেক্সিমকোর ফার্মার শেয়ারের। দাম বাড়তে বাড়তে এক সময় আগের দিনের সমাপনী দামের থেকে ১৮ টাকা ৭০ পয়সা দাম বেড়ে যায়।
শেষতক বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ২০৮ টাকা ৪০ পয়সা, যা বৃহস্পতিবার ছিল ১৯৮ টাকা ২০ পয়সা।
এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২১৬ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০২ টাকা ৮০ পয়সা।
রোববার বেক্সিমকো ফার্মার মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৫টি শেয়ার হাতবদল হয়। টাকার অঙ্কে লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম ২৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এই লেনদেন রোববারের ঢাকার পুরো লেনদেনের ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
সানোফি বাংলাদেশের বাকি ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ আছে বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের হাতে।
সানোফি বাংলাদেশের এই শেয়ার অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড। এই মূল্য সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেইন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের ছাড়পত্র এবং ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ লেনদেনের অনুমতি পেলেই সানোফির সঙ্গে চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি করবে বেক্সিমকো, সেজন্য ৩ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস রোববার আরও জানিয়েছে, এই লেনদেন চলতি বছরের ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে হবে। সেই সময় পার হয়ে গেলে সানোফি বাংলাদেশ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে শেয়ার নাও বিক্রি করতে পারে।
পুঁজিবাজারে বেক্সিমকো ফার্মার ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৯০টি শেয়ার আছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।
বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিদেশিদের হাতে ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২১ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার আছে।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজার মূলধন ৮ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪৪৬ কোটি ১২ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে।