ক্যাটাগরি

তিন জনের ৬৪, তিনশর কাছে বাংলাদেশ

সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে চট্টগ্রামে সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ২৯৭।

তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ৬৪ রানের ইনিংস, সাকিব আল হাসান ৫১। এক ম্যাচে বাংলাদেশের চারজনের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস এই নিয়ে হলো মাত্র তৃতীয়বার। আর চার সিনিয়রের একসঙ্গে ফিফটি এই প্রথম।

ম্যাচের আগে অধিনায়ক তামিম বলেছিলেন, বড় ইনিংসের তাড়নার কথা। স্বয়ং তামিম, সাকিব আর নাজমুল হোসেন শান্ত পারেননি সেই চাওয়া পূরণ করতে। তবে পরিস্থিতির বিবেচনায় মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর ইনিংস দুটি দুর্দান্ত।

জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ বড় ধাক্কা খায় প্রথম ওভারেই। লিটন দাসকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করে দেন আলজারি জোসেফ। তিন ম্যাচে ৩৬ রান, স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যানের জন্য সিরিজটি গেল হতাশার।

শান্তকে তিনে নামানোর পরীক্ষা ফল দেয়নি সিরিজের শেষ ম্যাচেও। তার শুরুটা যদিও ছিল দারুণ। প্রথম তিনটি স্কোরিং শট ছিল চমৎকার তিনটি বাউন্ডারি। কিন্তু ডানা মেলে ভেসে বেড়াতে পারেনি বেশিক্ষণ। ১২ রানে জীবন পেয়েও পারেননি কাজে লাগাতে। কাইল মেয়ার্সের সোজা বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি ৩০ বলে ২০ করে।

৩৮ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়তে পারত, যদি প্রথম বলেই সাকিবের ফিরতি ক্যাচ নিতে পারতেন মেয়ার্স। জীবন পেয়ে সাকিব আর ঝুঁকি নেননি। তামিমের সঙ্গে তার জুটি এগিয়ে নেয় দলকে।

ইনিংসের দশম ওভারে এই দুজনের ব্যাট থেকে দুটি বাউন্ডারির পর আর টানা ১৫ ওভার বাংলাদেশ পায়নি চার-ছয়। এক-দুই করে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন দুজন।

তামিম ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি স্পর্শ করেন ৭০ বলে। এরপরই দুর্দান্ত এক ইনসাইড আউট শটে ছক্কা মারেন জেসন মোহাম্মেদকে।

অনায়াসে খেলতে খেলতেই বাংলাদেশ অধিনায়ক পা দেন আলজারি জোসেফের ফাঁদে। নতুন স্পেলে এসে শর্ট মিড উইকেট রেখে তামিমের শরীর তাক করে বল করছিলেন জোসেফ। পুলে একটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন তামিম। কিন্তু ওই ওভারেই আবার একই চেষ্টায় ধরা পড়েন সেই শর্ট মিড উইকেটের হাতেই।

৩ চার ও ১ ছক্কায় তামিমের রান ৮০ বলে ৬৪। সাকিবের সঙ্গে জুটি থামে ৯৩ রানে।

সাকিব খুব ছন্দ না পেলেও উইকেট আঁকড়ে রাখেন। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর প্রথম ফিফটির দেখাও পেয়ে যান। ৭৮ বলে স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে তার ৪৮তম ফিফটি।

দলের ইনিংস নতুন গতি পায় মুশফিক উইকেটে যাওয়ার পর। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই আকিল হোসেনকে মারেন জোড়া বাউন্ডারি, প্রথমটি সুইচ হিটে, পরেরটি প্রথাগত সুইপে। অনায়াসেই ছুটতে থাকেন তিনি বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।

সাকিবের ৮১ বলে ৫১ রানের ইনিংস শেষ হয় রেমন রিফারের স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে। এটিই শাপেবর হয়ে আসে মাহমুদউল্লাহর জন্য। সিরিজের প্রথম ম্যাচে শেষ দিকে একটু ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, পরের ম্যাচে নামতেই পারেননি। এবার একটু ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগান তিনি দারুণভাবে।

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটিই মূলত দলকে নিয়ে যায় তিনশর কাছে। ৬১ বলে ৭২ রান যোগ করেন দুজন।

মুশফিক পঞ্চাশে পা 
রাখেন ৪৭ বলে। তার ৫৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস থামে ৪৭তম ওভারে। রিফারকে চোখধাঁধানো এক ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ দেন কাভারে। 

৭ নম্বরের চ্যালেঞ্জে প্রথম সুযোগে ৮ বলে ৭ করে সৌম্য হন রান আউট। তবে মাহমুদউল্লাহ শেষটা করে আসেন দারুণভাবে। ৩টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত থেকে যান ৪৩ বলে ৬৪ রান করে।

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যেই শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পারে ১০০ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৯৭/৬ (তামিম ৬৪, লিটন ০, শান্ত ২০, সাকিব ৫১, মুশফিক ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ৬৪*, সৌম্য ৭, সাইফ ৫*; জোসেফ ১০-০-৪৮-২, হার্ডিং ১০-০-৮৮-০, মেয়ার্স ৭-০-৩৪-১, রিফার ১০-০-৬১-২, আকিল ১০-০-৪৬-০, জেসন ৩-০-১৬-০)।