ক্যাটাগরি

পরীক্ষা শেষে প্রথম চালানের টিকা প্রয়োগের অনুমতি

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর
রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মহাখালীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে
তিনি বলেন, “বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
যে ২৫ জনকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন সেখানে এই টিকা দেওয়া
হবে।”

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট টিকার ওই চালান নিয়ে সোমবার ঢাকা পৌঁছায়।
পরে তা নিয়ে যাওয়া হয় টঙ্গীতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওয়্যারহাউজে। সেখান থেকে
প্রতিটি লটের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’হিসেবে বেক্সিমকো
ফার্মাসিউটিক্যালস সরকারকে এই টিকা সরবরাহ করছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়ায়
বেক্সিমকো এখন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় জেলায় টিকা পৌঁছে দেবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বিমানবন্দর
থেকেই তাদের দুজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করেছেন। টিকা নামার পর থেকে
বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে রাখা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তারা দেখেছেন। এই টিকা উৎপাদনের
পুরো প্রক্রিয়াটিও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যাচাই করেছে।

“ম্যানুফেকচারিং প্রসেস চলাকালে
যেসব পরীক্ষাগুলো করতে হয় তা ঠিকমতো করা হয়েছে কিনা, টিকার সঙ্গে যে ব্রশিয়ার পেয়েছি
তা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখেছি ঠিক আছে কি না।”

টিকা দেশে আসার পর তা সংরক্ষণের জন্য যে তাপমাত্রা (২ থেকে
৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) দরকার, সেই তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছে কি না, তাও দেখা হয়েছে বলে
জানান মাহবুবুর
রহমান।

তিনি বলেন, “টিকার
প্রতিটি কার্টনের সঙ্গে একটি ডিভাইস দেওয়া হয়েছে, সেখানে তাপমাত্রার রেকর্ড থাকে। আমরা
সেগুলো দেখেছি। বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজের তাপমাত্রাও আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি।”

সব পর্যালোচনা করে এ টিকার মান নিয়ন্ত্রণ ‘সঠিকভাবে হয়েছে’ বলেই মনে করছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

মহাপরিচালক বলেন, “আমরা
পরীক্ষার এই কাজটি ডব্লিউএইচও স্বীকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী করেছি। টিকাগুলো কোয়ালিটির দিক
থেকে উপযুক্ত, এই সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।”

করোনাভাইরাস মহামারীর এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আশা হয়ে এসেছে টিকা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার
টিকা কোভিশিল্ড সেরাম ইনস্টিটিউটেও তৈরি হচ্ছে।

এই টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া
ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী,
প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাঠানোর কথা সেরাম ইনস্টিটিউটের।

এর আগে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একই টিকার ২০ লাখ ডোজ পাওয়ার
পর সরকার ২৭ জানুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের মধ্যে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ
হবে। তারপর ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে বলে মঙ্গলবার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

কোভিড-১৯: সরকারের কেনা টিকার প্রথম চালানে এল ৫০ লাখ ডোজ
 

টিকাদান উদ্বোধনের সময়ই নিবন্ধন শুরুর ভাবনা
 

২৭ জানুয়ারি প্রথম কোভিড-১৯ টিকা পাবেন একজন নার্স
 

কোভিড-১৯: টিকার জন্য নিবন্ধন কীভাবে
 

দেশে এল করোনাভাইরাসের টিকা
 

আগামী মাসে বেসরকারিভাবেও টিকা বিক্রি করবে বেক্সিমকো