বিশ্ববিদ্যালয়ের
শহীদ মিনারের পাদদেশে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ছিলেন।
গত বছর জানুয়ারিতে খুলনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেতন-ফি কমানো, আবাসন সংকট সমাধানসহ পাঁচ দফা দাবিতে
ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন। তাতে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি এক শিক্ষককে বরখাস্ত
এবং দুই শিক্ষককে অপসারণ করা হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অপসারণ
‘জুনিয়রদের নির্যাতন,’ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ শিক্ষার্থীর শাস্তি
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী,
বরখাস্ত হলে তারা অন্য কোনো সরকারি চাকরি করতে পারবেন না। অপসারিত হলে করতে পারেন।
এছাড়া এ মাসেই অসদাচরণের
অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রকে দুই বছরের জন্য আর একজনকে এক বছরের জন্য
বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে একজনের সার্টিফিকেট এক বছরের জন্য স্থগিত এবং অন্য একজনকে
১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আনু
মুহাম্মদ বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা অস্বাভাবিক মনে হলেও এর আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে
এ রকম ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় পুলিশ, আমলা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার শ্রেণির
লোকদেরকে প্রশাসনে বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি রোবটে পরিণত করতে। তারা চায় না কেউ মুক্ত
চিন্তা করুক, সৃজনশীল চিন্তা করুক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত মেরুদ- থাকুক।
তারা চায় এমন শিক্ষক যারা শিক্ষাচর্চার সঙ্গে থাকবে না। বরং প্রশাসনের অনুগত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে
বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত এলাকা,
সমাজকে অগ্রসর করানোর জন্য এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, রাজনৈতিক চিন্তা, বিতর্ক, মত
প্রকাশের ক্ষেত্র ইত্যাদি তৈরি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সমাজ একটা দিশা পায়। সে
দিশাটা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সে রকম স্থানে এ ধরনের ঘটনা
কাম্য নয়।”
এসময়
তিনি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার
ঘোষণা দেন।
‘নিপীড়নের
বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ কর্মসূচিতে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট অংশ নেন।
ছাত্রদের শরবত খাওয়ালেন, শিক্ষকদের নিয়ে কিছুই বললেন না খুলনার উপাচার্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনরত ২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক রনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য হয়ে যারাই আসছেন, তারা সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্যই আসছেন। একজন উপাচার্যের
কাজ এমন হওয়ার কথা নয়।”
নৃবিজ্ঞান
বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, অধ্যাপক
মাহমুদুল হাসান সুমন, অধ্যাপক এমদাদুল হুদা, অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, অধ্যাপক
মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন,
সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক কর্মসূচিতে
ছিলেন।