বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে তাদের বহনকারী
১৭টি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিক ও এক দোকানী জানিয়েছেন।
ওই কলেজের মাঠে আরও বেশ কিছু বাস অবস্থান করছে জানালেও চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে
ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোয় কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি তারা।
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের ব্যাপারে বরাবরের মতো তৃতীয় দফায়ও শরণার্থী
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য
পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যাওয়া এসব বাসে অন্তত
পাঁচশ’ বেশি রোহিঙ্গা রয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের বহনকারী বাসগুলোর সামনে ও পেছনে র্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা
বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।
প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৬৪২
জন এবং দ্বিতীয় দফায় গত ২৮ ডিসেম্বর এক হাজার ৮০৫ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর
করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য বুধবার রাতেই
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। রাতেই
উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো করা হয় অন্তত ৫০টি বাস।
স্থানীয় মুদির দোকানী আবুল কালাম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে
প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের বহনকারী ১৭ টি বাস ছেড়ে যেতে দেখেছেন।
উখিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক শফিক আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৭টি
বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছে। উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে
অন্তত আরও ৩০টি বাস অবস্থান করতে দেখা গেছে।
ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস পর্যন্ত এলাকাজুড়ে
ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। সেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলেও
বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানান, তৃতীয় দফায় স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে
আগ্রহী অন্তত দেড় হাজার রোহিঙ্গা। এই রোহিঙ্গাদের বৃহস্পতিবারই বাসে করে চট্টগ্রামে
নিয়ে যাওয়া হবে। পরে সেখান থেকে এসব রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।