বৃহস্পতিবার
ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের
আদালতে মামলাটির রায় হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু
বিচারক অসুস্থ থাকায় আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রায় দেওয়ার নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে বলে বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা অরেন্জ।
এই
মামলায় আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও ধর্ষণের শিকার মেয়েটি তার বাবাকে
বাঁচাতে চেয়েছিল।
আসামিপক্ষের
আইনজীবী মহিবুল হাসান আপেল বলেন, “বিচার চলাকালে বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। সে বলেছে,
তার বাবা তাকে জন্ম দিয়েছে, সে বিচার চায় না। যেহেতু বাদী বিচার চায় না, সেক্ষেত্রে
আদালত বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।”
তবে
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা বলেন, “যদিও ধর্ষণের শিকার কন্যা তার বাবাকে বাঁচাতে
চেয়েছিল। কিন্তু আমরা চাই এ রায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক।
“আসামি
নিজেও দোষ স্বীকার করেছেন। মামলার অন্যান্য আলামত, ডিএনএ আসামির সঙ্গে ম্যাচ করেছে।
রায়ে আমরা সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছি।”
২০১৯
সালের মে মাসে বাবা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বাড্ডা থানায় মামলাটি করে
ওই কিশোরী। ওই এলাকায় কিশোরী ও তার ভাই বাবার সঙ্গে থাকত।
তার
মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদের পর ওই শিশু দুটি চট্টগ্রামে তাদের নানার বাড়িতে থাকত।
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসেই তাদের বাবা দুজনকে ঢাকায় তার কাছে নিয়ে আসেন।
ওই
কিশোরীর মামা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বোন ও তার স্বামীর যখন ডিভোর্স হয়ে যায়, তখন
ওরা দুই ভাই-বোন ছোট ছিল। নিজ হাতে যত্ন করে ওদের বড় করেছি। বাবা-মায়ের অভাব বুঝতে
দিইনি। একটু বড় হওয়ার পর তার বাবা এসে তাদের এসে নিয়ে যায়। ইচ্ছা থাকলেও তাদের আটকাতে
পারিনি।
“এরপর
তো এ ঘটনা। আমরা চাই এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”
মামলার
নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ৮/৯ বছর আগে ওই রিকশাচালকের সঙ্গে চট্টগ্রামের ওই নারীর বিয়ে
হয়। ওই নারী পরে আরেকজনকে বিয়ে করেন। ওই রিকশাচালকও আরেকটি বিয়ে করেন।
২০১৯
সালের এপ্রিল মাসে ওই রিকশাচালক তার আগের ঘরের ছেলে-মেয়েকে চট্টগ্রাম থেকে এনে ঢাকার
রূপনগর আবাসিক এলাকার বস্তিতে তার ঘরে ওঠান। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আপত্তি তোলার পর মে
মাসেই বাড্ডার আব্দুল্লাহবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নেন তিনি।
তার
পরপরই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মেয়েটি তখন ভয়ে চট্টগ্রামে তার মামার কাছে চলে যাওয়ার পথে
পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর মামলা করে।
মামলার
পরপরই ওই রিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কয়েকদিন বাদেই আদালতে দোষ স্বীকার করে
জবানবিন্দ দেন তিনি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এখনও তিনি কারাগারে আছেন।
এদিকে মামলা তদন্ত করে
বাড্ডা থানার এসআই আল-ইমরান আহম্মেদ অভিযোগপত্র দাখিরে পর গত বছরের ১২ অক্টোবর আসামির
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারক।