আটকাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে এক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে নাভালনি এই নিন্দা জানান। নাভালনি তার বর্তমান আটকাদেশ থেকে মুক্তির জন্য আপিল করেছিলেন।
তবে বৃহস্পতিবার এই আপিলের শুনানিতে বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আপিলের শুনানিতে নাভালনি অভিযোগ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসনে সবাই ‘চোর’। সরকারের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মুখ বন্ধ করে দিতে…আমাকেসহ প্রত্যেককে ভয় দেখাতে এমন করা হচ্ছে।”
নাভালনি আরও বলেন, “আপনারা দেশের বস, সেটাই আপনারা দেখাতে চান। কিন্তু আপনারা তা নন। আপনারা এখন ক্ষমতায় আছেন, কিন্তু এ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত নেতা নাভালনি। বিষপ্রয়োগে অসুস্থ হওয়ার পাঁচ মাস পর গত ১৭ জানুয়ারি প্রথম রাশিয়ায় ফেরার পরই নাভালনিকে গ্রেপ্তার করে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ স্টেশনে আদালত বসিয়ে তাকে এই আটকাদেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। এরই মধ্যে পুলিশ নাভালনির ঘনিষ্ঠজনদের গ্রেপ্তার করেছে।
নাভালনির ডাকে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ জোরাল হতে থাকার জেরেই পুলিশ এই ধরপাকড় চালাচ্ছে। নাভালনির সমর্থকদের ওপর চাপ বাড়াতে বুধবার নাভালনির বাসভবনসহ বেশ কিছু ফ্ল্যাট ও কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নাভালনির সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তও শুরু হয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী নাভলনি গত বছর অগাস্টে একটি অভ্যন্তরীন ফ্লাইটে সার্বিয়া থেকে মস্কো ফেরার সময় এককাপ চা পানের পরই অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দর থেকে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
অবস্থার পরিবর্তন না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষায় জানায় যায়, সোভিয়েত আমলে তৈরি বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট নোভিচক দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
নাভালনি ও তার সমর্থকদের অভিযোগ, রুশ সরকার বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই তাকে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে মারার চেষ্টা করা হয়।
অবশ্য ক্রেমলিন ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। পুতিন বলেছেন, যদি রুশ এজেন্টরা তাকে হত্যা করতেই চাইত, তবে ‘তারা অবশ্যই তাদের কাজ শেষ করত’।
বার্লিনের একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন নাভালনি। তার স্বাস্থ্যও প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এরপরই নিজ দেশ রাশিয়ায় ফেরেন এই নেতা।