নির্বাচন
কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপের ৬৩ পৌরসভায়
কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দিন সকালে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার।
শনিবার
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে এসব পৌরসভায়।
প্রথম
ধাপে ইভিএমে এবং দ্বিতীয় ধাপে ইভিএম ও ব্যালট পেপারে ভোট হয়। তৃতীয় ধাপের সব পৌরসভায়
ব্যালট পেপারে ভোট হবে।
চট্টগ্রাম
সিটি করপোরেশনের ভোটে অনিয়ম-সহিংসতা ও তুলনামুলক কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার
মধ্যে পৌরসভার তৃতীয় ধাপে নির্বাচন হচ্ছে।
করোনাভাইরাস
মহামারীর মধ্যে পৌর নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে গড়ে ৬৪ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
মেয়র
পদে দলীয প্রতীকে ভোট হলেও বিদ্রোহী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অনেক সময় সংঘাতের
ঘটনা দেখা গেছে।
এ
দুই ধাপের ভোটে দুয়েকটি এলাকায় সহিংসতা-গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় ধাপে পরিস্থিতি
ভালো রাখতে তৎপরতা রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
ইসির
অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বলেন, “তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে কমিশন
বেশ সজাগ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য অতিরিক্ত সংখ্যক নিয়োজিত
রাখা হচ্ছে অনেক এলাকায়। বিজিবির প্লাটুন বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি
জানান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সবশেষ অবস্থা ও শান্তিপর্ণ পরিবেশ বজায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা
প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।
যেসব পৌরসভায় ভোট
গাইবান্ধার
গোবিন্দগঞ্জ; নওগাঁর ধামইরহাট ও নওগাঁ সদর; সিলেটের গোলাপগঞ্জ; বগুড়ার ধুনট, গাবতলী,
শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম ও কাহালু; রাজশাহীর মুন্ডুমালা; মৌলভীবাজার সদর; ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর;
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ; কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম,
লাকসাম ও বরুড়া; চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ; ফেনী সদর; মুন্সিগঞ্জ সদর; শরীয়তপুরের নড়িয়া,
জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ; ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ভালুকা ; শেরপুরের নকলা; নাটোরের
সিংড়া; রাজশাহীর কেশরহাট; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; ঝালকাঠির নলছিটি; নেত্রকোনার দুর্গাপুর;
যশোরের মনিরামপুর; নোয়াখালীর হাতিয়া ও চৌমুহনী; লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ; কিশোরগঞ্জের
কটিয়াদী; গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া; ; টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, সখিপুর, মধুপুর ও মির্জাপুর;
বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা; ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান; শেরপুরের নালিতাবাড়ী; কুড়িগ্রামের উলিপুর; দিনাজপুরের
হাকিমপুর; চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর; নড়াইল সদর; সাতক্ষীরার কলারোয়া; রাজবাড়ীর পাংশা;
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি; বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দীগঞ্জ; জামালপুরের সরিষাবাড়ী; সিলেটের
জকিগঞ্জ; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু; নীলফামারীর জলঢাকা; পাবনা সদর; খুলনার পাইকগাছা; নড়াইলের
কালিয়া।
তৃতীয় ধাপে ১০ দল
মেয়র
পদে সব মিলিয়ে মোট ১০টি দলের প্রার্থী রয়েছে এই ধাপে। তবে বরাবরের মতোই মূল লড়াই হবে
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে।
পৌর
ভোটের দ্বিতীয় ধাপে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক
আন্দোলন-এনডিএম, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল-জাগপা,
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, বাংলাদেশ কংগ্রেস।
দ্বিতীয়
ধাপে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ৪৫ জন, বিএনপির ৪ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, জাসদের ১ জন
ও ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন।
প্রথম
ধাপে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, বিএনপির দুজন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী
হন।
প্রার্থী ৩ সহ্রসাধিক
তৃতীয়
ধাপে মেয়র পদে তিনজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫ জন বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসির
জনসংযোগ শাখা জানায়, প্রত্যাহারের পরে চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন তিনটি পদে মোট ৩৩৪৪ জন
প্রার্থী। এরমধ্যে মেয়র পদে ২২৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৫৫ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর
পদে ২৩৬০ জন।
এ
ধাপে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কুমিল্লার লাকসাম ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র
পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
দেশে
পৌরসভা রয়েছে মোট ৩২৯টি। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার পাঁচ ধাপে এসব পৌরসভায় নির্বাচন
করছে কমিশন।
প্রথম
ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় গত ২৮ ডিসেম্বর ইভিএমে ভোট হয়েছে; এরপর ১৬ জানুয়ারি ভোট
হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের ৬১ পৌরসভায়।
তৃতীয়
ধাপের ভোট ৩০ জানুয়ারি, চতুর্ধ ধাপের ১৪ ফেব্রুয়ারি ও পঞ্চম ধাপের ভোট হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।