সেই সঙ্গে বিচারিক আদালতে মামলাটি এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি
উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহষ্পতিবার এ রায় দেয়।
মামলা বাতিল চেয়ে শওকত আজিজ রাসেল এবং রাজউক কর্মকর্তা
এস ডি ফয়েজ ও এ কে এম ওয়াহিদুল ইসলামের করা আবেদন খারিজ করে এ রায় দিয়েছে হাই
কোর্ট।
সেই সঙ্গে এ মামলার বিচারকাজে দেওয়া স্থগিতাদেশও
প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আদালতে শওকত আজিজ রাসেলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আবদুর
রেজ্জাক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী
কে এম সাইফুদ্দিন, দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে
ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
এম এ হাশেমের দুই ছেলে ও রাজউকের ৬ কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা
করে।
মামলার আসামিরা হলেন- শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ, রাজউকের
সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পাঁচ সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম
ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক ও রেজাউল করিম তরফদার।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী রাজউকের
চেয়ারম্যান থাকাকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে’ অন্যদের
যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা
জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। অথচ তারা ওই প্রকল্পে শিল্পপতি কোটায় প্লট বরাদ্দের
আবেদন করে প্লট পাননি। সে কারণে ওই আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়ে জামানতের টাকা তুলে
নেন। আবেদন প্রত্যাহারকারীরা বিবেচনাযোগ্য না হলেও তা রাজউকের বিশেষ বোর্ড সভায় এই
বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়।
এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর
অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগ
গঠন করে।
মামলাটি এখন ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। এরইমধ্যে তিনজনের
সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় মামলাটি বাতিল চেয়ে আবেদন করেন শওকত আজিজ
রাসেল। তাতে হাই কোর্ট গত বছরের ১৪ নভেম্বর রুল জারি করে মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ
দেয়।
শুনানির পর বৃহস্পতিবার সে রুলটিই খারিজ করে রায় দিল
আদালত।
এছাড়া রাজউকের দুই সদস্য এস ডি ফয়েজ এবং এ কে এম
ওয়াহেদুল ইসলামের করা আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।