সোমবার
সিটি করপোরেশনের পরামর্শক কমিটির শেষ সভায় একথা বলেন সুজন, যিনি মহামারীকালে ভোট
দেরিতে হওয়ার কারণে ছয় মাসের জন্য দায়িত্বে এসেছিলেন।
চট্টগ্রাম
সিটি করপোরেশনের নির্বাচন এরই মধ্যে হয়ে গেছে। এখন আওয়ামী লীগ নেতা সুজন দায়িত্ব
বুঝিয়ে দেবেন নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে। তিনিও একই দলের নেতা।
সুজন
বলেন, “স্বল্প সময়ের মেয়াদকালে আমি চেষ্টা করেছি চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন,পরিবেশবান্ধব,
মানবিক ও চিত্তের শহরে পরিণত করতে। আমি সকল কর্মকাণ্ডে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি।
সফলতার বিচার ভার নগরবাসীর হাতে।”
দায়িত্ব
পালনে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
গত
৬ অগাস্ট প্রশাসকের দায়িত্ব নেন সুজন। সোমবারেই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বের পালা শেষ করলেন তিনি।
সভায়
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম বলেন, নগরীর সার্বিক পরিবর্তনে
প্রশাসক যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তার প্রতিফলন নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রশাসকের
অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে নব নির্বাচিত মেয়র তাকে সাথে নিয়ে কাজ করতে পারেন।
অনলাইনে
অনুষ্ঠিত ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত,
শিক্ষাবিদ হসিনা জাকারিয়া বেলা, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম
খান, প্রকৌশলী প্রবীর সেন, স্থপতি আশিক ইমরান, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য
কমোডর জোবায়ের, মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি
মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
চসিকের
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াও ছিলেন
সভায়।
‘এখন রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি অনেক দূরে’
নগরীর
লালদীঘি পার্কে সোমবার সিসিসি আয়োজিত কবিতা পাঠের আসর ও পিঠা উৎসবে আন্তর্জাতিক
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত প্রশাসক হিসেবে সুজনের কাজের
প্রশংসা করেন।
তিনি
বলেন, “আমাদের রাজনীতির সাথে অতীতে যে সংস্কৃতি যুক্ত ছিল, তার প্রমাণ দিয়ে
যাচ্ছেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। ষাটের দশকে, সত্তরের দশকে আমাদের রাজনীতির
চেহারা ছিল এমনই। তখন একজন রাজনীতিবিদ শুধু রাজনীতিই করতেন না, কবিতাও পড়তেন, গানও
ভালবাসতেন।“
“আজ
দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি অনেক দূরে সরে চলে গেছে। এজন্য
একটি সংস্কৃতিবিহীন বন্ধ্যা রাজনৈতিক পরিবেশে এখন আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে।”
রানা
দাশগুপ্ত বলেন, “কয়েকদিন আগে প্রশাসক জ্যোৎস্না উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এই যে
বাংলা ও বাঙালির মনন, বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে ধারণ এবং এর সঙ্গে সবার
সম্মিলন ঘটানোর যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি খোরশেদ আলম সুজন চালু করেছেন, আগামীদিনে যিনি
মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে আসছেন, তিনিও সেই সাংস্কৃতিক ধারা অনুসরণ করবেন বলে আমি
বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “আমার বিদায়ের সময় এসে গেছে, শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। আমাকে
ছয়টি মাসের জন্য নেত্রী কেন দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আমি জানি না। আমি আমার সাধ্যমতো,
আমার যত যোগ্যতা, দক্ষতা, আমার যা জানা ছিল সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করেছি আপনাদের
সেবা করতে।”
নগরবাসীর
উদ্দেশে সুজন বলেন, “আমার কাজে যদি সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন তাহলে আমাকে দোয়া করবেন। আর
আমি যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, প্রশাসন চালাতে গেলে অনেকসময় কঠোর-কাঠিন্যের
সাথেও চলতে হয়েছে, আমি করজোড়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
“বিশ্বাস
করুন, জীবনের শপথ করে বলছি, আমি অসততা করতে চাইনি। আমি যতটুকু পেরেছি, আপনাদের
সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার পরে যিনি আসছেন, উনি অনেক যোগ্যতর ব্যক্তি। অনেক
ভালো লোক। তিনি অনেক শিক্ষিত, মার্জিত, সংস্কৃতিমনা লোক। আশা করি, তিনি এই শহরকে
মানুষের বাসযোগ্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর একটি মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন। আমি
উনার জন্য শুভকামনা করছি।”