সোমবার
এই নির্দেশনা সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ
ব্যাংক।
গত
বছরের ২৭ জুলাই কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) উদ্যোগ খাতে ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি
স্কিমের’ নীতিমালা ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ওই
নীতিমালায় বলা হয়েছিল, ক্রেডিট গ্যারান্টি বা ঋণ নিশ্চয়তা সুবিধা কুটির, মাইক্রো ও
ক্ষুদ্র (সিএমএস) উদ্যোগ খাতে শুধু চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) জন্য উন্মুক্ত
ছিল।
কিন্তু
সমগ্র সিএমএসএমই খাতে কোভিড-১৯ মহামারীর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এছাড়া কুটির, মাইক্রো
ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনেক সময় চলতি মূলধন ঋণ গ্রহণ না করে শুধু স্বল্প মেয়াদি ঋণ
(টার্ম লোন) সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন।
“এ
প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আলোচ্য ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা চলতি মূলধনের পাশাপাশি
মেয়াদী ঋণের জন্যও প্রযোজ্য হবে,” বলা হয় নতুন নির্দেশনায়।
নীতিমালায়
অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতি মাসের প্রথম ১০ কার্যদিবসের
মধ্যে গ্যারান্টি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন
নির্দেশনায় তা পাঁচ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বার
বার তাগাদা দেওয়ার পরও মহামারীকালে ব্যাংক ওআর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট ঋণ বিতরণে এগিয়ে
না আসায় এই ঋণের ঝুঁকির ভাগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এজন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি
স্কিম বা ঋণ নিশ্চয়তা স্কিম নামে একটি তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সরকার
ও বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিলের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করছে।
করোনাভাইরাস
মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে
যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে, তার আওতায় কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র
শিল্পে (ছোট ঋণ-সিএমএস) বিতরণ করা ঋণ আদায় না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল ঋণের সর্বোচ্চ
৮০ শতাংশ পর্যন্ত ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’ থেকে পরিশোধ করবে।
যে
সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা এই সুবিধা পাবে না।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য
হবে না।
অর্থাৎ
সরকারি কোনো বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ যতই হোক না কেন, তারা ছোট ঋণ
বিতরণ করলে সেই ঋণ আদায় না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল ঋণের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধ
করবে।