সিটি
নির্বাচনে নগরীর ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য
মাসুমকে দায়ী করে সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি
জানান।
লালখান
বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থী করেছিল বেলালকে। তবে বিদ্রোহী
প্রার্থী ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর এফ কবির মানিক। মাসুম নির্বাচনে মানিকের পক্ষ নেন।
তবে ভোটে বেলালই জেতেন।
সংবাদ
সম্মেলনে বেলাল বলেন, “মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার যাতনায় প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি সিএমপির
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, গডফাদার দিদারুল আলম মাসুম ও তার ক্যাডাররা আমাকে এবং আমার
পরিবারকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি-ধমকি, অপপ্রচার চালানোসহ একের
পর এক নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে, হামলা করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।”
এসব
বিষয়ে থানায় জিডি, পুলিশ কমিশনার ও র্যাবের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়ে নেতাকর্মীদের
জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন বেলাল।
তিনি
বলেন, “নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর মাসুমের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ আরও ভয়ংকর রূপ
নেয়। তার নির্দেশে তার অনুগত বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাত করে হত্যা
চেষ্টাসহ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে আমাকে কর্মীশূন্য করতে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে হামলা
করে।
“দ্বিতীয়
দফায় নির্বাচণী প্রচারণা শুরুর পর মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম ও বিভিন্ন সভা সমাবেশে আমাকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করে।
এ নিয়ে জিডি করতে আমি খুলশী থানায় গেলে কোন এক অদৃশ্য কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি। সুষ্ঠু
নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষায় আমরা নির্বাচন কমিশনকেও মাসুম ও
তার বাহিনীর কার্যক্রম অবহিত করি।”
বেলাল
বলেন, “সকল আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে নির্বাচনের দিনে মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনীর
নেতৃত্বে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ আলম, বিদ্রোহী প্রার্থী মানিক, টাইগার পাসের
জোড়া খুন মামলার আসামি লিমন (সাইফুল ইসলাম লিমন) বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের উপর
বিভিন্ন কেন্দ্রে যুগপৎ হামলা চালায়।
“তাদের
হামলায় আমার বিভিন্ন কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক, সচিবসহ ২২জন নেতাকর্মী আহত হয়ে
বর্তমানে চিকিৎসাধীণ আছে। এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র
ব্যবহার করলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত সেই অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে কোনো
ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।”
ভোটের
দিন ওই ওয়ার্ডের একাধিক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী, বিদ্রোহী ও বিএনপি
প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২১ জন আহত হয়।
ওয়ার্ড
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ইতোপূর্বে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত
বিশ্বাস হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি জামিনে বের হন।
নির্বাচনের
দিনের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে বেলাল বলেন, “যে কেন্দ্রটিকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে
নিরাপদ কেন্দ্র বলে বিবেচনা করা সেই পুলিশ লাইন কেন্দ্রে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী
শাহ আলম ও তার ছোট ভাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী কামালের নেতৃত্বে দুই শতাধিক সন্ত্রাসী
হামলা চালিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে
তানভীর ফয়সাল ইভানসহ আমার চারজন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে।
“মাসুমের
নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রে যে যুগপথ হামলা চালানো হয়েছিল, আমি মনে করি তা
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ। সহিংসতার
মাধ্যমে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে বিএনপি জামাত
সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার যে প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে
মাসুম বিএনপি জামাতের এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।”
‘বিএনপি
জামাতের এজেন্ট’ মাসুমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন তদন্ত
সংস্থাকে নির্বাচনের দিনে তার সরকারবিরোধী ভূমিকা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান বেলাল।
ন্যায়
বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে সুদীপ্ত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিয়ে মাসুমকে বিচারের
আওতায় আনার দাবিও জানান বেলাল।
লালখান
বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধে নিয়মিত সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটে।
সংবাদ
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-১৪, ১৫ ও ২১নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর
আঞ্জুমান আরা, দেলোয়ার হোসেন দেলু, কাউসারুজ্জামান, আবু সায়েদ সুমন, নিজামুল বারী,
মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ, জামমেদ আলম, সৈয়দ শওকত হোসেন, শওকত আলম, নাজমুল হাসান
রুমী, সীমা আহমেদ, রুমা ইসলাম, কুলসুম মজুমদার প্রমুখ।