ক্যাটাগরি

স্বামী ৮৯, স্ত্রী ৮১, টিকা নিয়ে বাড়ি গেলেন হাসিমুখে

৮১ বছর বয়সী রওশন আরা আর ৮৯ পেরোনো আব্দুল মতিন থাকেন ঢাকার রামপুরায়। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে এসে একসঙ্গে টিকা নিয়েছেন তারা।

যে হাসিমাখা মুখ নিয়ে এই জ্যেষ্ঠ নাগরিক দম্পতি টিকাকেন্দ্রে এসেছিলেন, টিকা নেওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরে গেলেন মুখে সেই হাসি আর স্বস্তি নিয়েই।

রওশন আরা তার স্বামীকে বলছিলেন, “টিকা নেওয়ার সময় আমি তো টেরই পেলাম না, তুমি?”

আবদুল মতিনও তখন মাথা নেড়ে জানালেন, কোনো সমস্যা তার হয়নি।

কর্মজীবনে রওশন আরা মতিন ছিলেন ঢাকা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। হাসতে হাসতে বললেন, “এখানকার সবই তো আমার স্টুডেন্ট। পরিচিত অনেকের সাথে দেখা হল, খুবই ভালো লাগছে।”

আবদুল মতিন ছিলেন প্রকৌশলী। দেশে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কাজ করেছেন এক সময়; চাকরি করেছেন বিদেশেও।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন, “টিকা ভালো, টিকা সবার নেওয়া উচিত।”

টিকাকেন্দ্রে এই দম্পতির সঙ্গে এসেছিলেন তাদের মেয়ে ফারিয়া বুশরা মতিন।

তিনি বললেন, “উনারা এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি, এটা স্বস্তির বিষয়। এত বয়স হলেও মানসিকভাবে তারা অনেক শক্ত। টিকা নেওয়ার পর দুজনেই ভালো আছেন।”

করোনাভাইরাসের গণ টিকাদান শুরুর পর তৃতীয় দিনের মত টিকা দেওয়া চলছে সারা দেশে। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের টিকাকেন্দ্রে আগের দুদিনের চেয়ে ভিড় বেশি দেখা গেল। তাদের মধ্যে বয়ষ্ক নাগরিকরাও এসেছেন।

টিকা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক তাসমিনা পারভীন বলেন, “আমাদের এখানে প্রথম দিন ২৭০ জন টিকা নিয়েছিলেন। গতকাল নিয়েছেন ৫০০ জন। আর আজ তৃতীয় দিনে সকালেই অনেকে এসেছেন টিকা নিতে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, এ পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই ‘ভালো আছেন’।

টিকা কেন্দ্রে অবজারভেশন কক্ষে চেয়ার ছাড়াও ছয় বিছানার একটি কক্ষ রয়েছে। এই তিনদিনে কাউকে সেই বিছানায় থাকতে হয়নি বলে জানান দায়িত্বরত একজন নার্স।

তিনি বলেন, “টিকা দেওয়ার পর সবাই চেয়ারে একটু বিশ্রাম করেই চলে যান। এমন খারাপ কারো লাগেনি যে বিছানায় যেতে হবে।”

গত দুদিনে সারাদেশে ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন কোভিড-১৯ টিকা নিয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের মেডিকেলে ইনফরমেশন সার্ভিসেস বিভাগ জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিন যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৯২ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। আগের দিন সে রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল ২১ জনের মধ্যে।

তবে কারও ক্ষেত্রে গুরুতর কিছু ঘটার খবর এখনও আসেনি।

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। সবাইকে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে।

এই টিকা নিরাপদ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।