সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, আব্দুল মতিন খসরু, কামাল উল আলম, প্রবীর নিয়োগী ও শাহদীন মালিককে অনুরোধ করা হয়েছে অ্যামিচি কিউরি হিসেবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।
আদেশের অনুলিপি বুধবারের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আবেদনকারী আইনজীবী এম এনামুল কবির ইমন। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল।
বাংলাদেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে গত সোমবার রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। আবেদনকারী হয়ে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এনামুল কবির ইমন।
রিটে আল-জাজিরায় সম্প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ প্রতিবেদনটি ইউটিউব, ফেইসবুক ও টুইটার থেকে অপসারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করে আল-জাজিরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সেখানে বলা হয়, কিছু ‘উগ্রপন্থি ও তাদের সহযোগী, যারা লন্ডন এবং বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসব করছে’, তাদের এই ‘বেপরোয়া অপপ্রচারকে’ বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করছে।
আর সেনা সদরের তরফ থেকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই প্রতিবেদনকে বর্ণনা করা হয় ‘সাজানো এবং দুরভিসন্ধিমূলক’ হিসেবে।
বুধবার রিটের শুনানিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. মজিবুর রহমান মিয়া বলেন, “সুনির্দিষ্ট আইন ও কর্তৃপক্ষ থাকার পরেও গত দশ দিনে কেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ওই ভিডিও অপসারণ করা গেল না? এখন তো দেশ ও বিদেশের কোটি কোটি লোক এটা প্রত্যক্ষ করেছে। এখন এটা বন্ধ বা অপসারণ করা না করা একই কথা।”
তিনি বলেন, “বিটিআরসি যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে না পারে, তাহলে তারা ওখানে বসে আছে কেন?”
বিটিআরসির আইনজীবী রেজা-ই-রাকিব তখন বলেন, “আদালত আদেশ দিয়ে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে এ সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি প্রচার না করা হয়, সেজন্য পদক্ষেপ নিতে আদালত আদেশ দিতে পারে, যেমনটা নোয়াখালীর এক নারীর নির্যাতনের ঘটনায় দেওয়া হয়েছিল। আর দেশের মধ্যে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব।”
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, “বিটিআরসির উচিত ছিল পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা নিষ্ক্রিয়তা দেখিয়েছে।”
রিট আবেদনকারীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- আল-জাজিরায় সম্প্রচারিত তথ্যচিত্রে তিনি কীভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে রিট আবেদনের আগে সংশ্লিষ্টদের উকিল নোটিস দেওয়া হয়েছিল কিনা এবং এই রিটকে তিনি ‘জনস্বার্থে’ বলছেন কীভাবে।
জবাবে রিটকারী আইনজীবী এম এনামুল কবির ইমন বলেন, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে এই রিট করা হয়েছে।