যুক্তরাজ্যের জেনেটিক সারভাইল্যান্স প্রোগ্রামের প্রধান বিজ্ঞানী প্রফেসর শ্যারন পিকক বলেন, করোনাভাইরাসের এই কেন্ট ধরন কোভিড-১৯ টিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে- সেটিও মাথাব্যাথার কারণ।
তিনি বলেন, “নতুন এই ধরন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন গোটা বিশ্বেই তা ছেয়ে যাওয়ার সব রকম সম্ভাবনাই আছে।”
বৃহস্পতিবার বিবিসি’র ‘নিউজকাস্ট পডকাস্ট’ প্রোগ্রামে পিকক বলেন, ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসের ধরন নিয়ে টিকার সঙ্গে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেত্রে টিকা এখন পর্যন্ত কার্যকর দেখা গেছে জানিয়ে পিকক বলেন, কিন্তু করোনাভাইরাসের কেন্ট ধরনটি টিকার সুরক্ষা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
বিবিসি জানায়, করোনাভাইরাসের কেন্ট ধরন এরই মধ্যে ৫০ টির বেশি দেশে ছড়িয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে এই ধরনটিকে বলা হচ্ছে ‘উদ্বেগজনক ধরন’।
করোনাভাইরাসের এই ধরনটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে শনাক্ত হয়েছিল এবং পরের কয়েকমাসেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যজুড়ে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের চাইতে এই ধরন ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক এবং ৩০ শতাংশ বেশি মারাত্মক হতে পারে।
বর্তমানে করোনাভাইরাসের তিনটি প্রধান ধরন নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন। এগুলো হচ্ছে, প্রথমত: দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া ধরন, বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যেটি ২০১/৫০১ওয়াই.ভি২ কিংবা বি.১.৩৫১ নামে পরিচিত। দ্বিতীয়ত: ব্রিটিশ বা কেন্ট ধরন; বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় যেটি ২০১/৫০১ওয়াই.ভি১ কিংবা বি.১.১.৭ নামে পরিচিত। আর তৃতীয়ত: ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া ধরন, যার বৈজ্ঞানিক নাম পি.১।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ ধরন অর্থাৎ, কেন্ট বি.১.১.৭ ধরনটি অন্যান্য ধরনের চাইতে অনেক বেশি সংক্রামক এবং এটি বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী পিকক বলেন, এই ধরনটি নিত্যনতুন যে রূপ নিচ্ছে তাতে তা টিকাদান প্রচেষ্টাও নস্যাৎ করে ফেলতে পারে।
ধরনটি এরই মধ্যে পাঁচবার রূপ বদল করেছে। পিকক বলেন, একবার আমরা এই ভাইরাসকে জয় করতে পারলে কিংবা ভাইরাসটি আপনা থেকেই কম সংক্রামক হয়ে পড়লেই কেবল আমরা উদ্বেগ মুক্ত হতে পারব।
“কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, সে অবস্থায় পৌঁছতে কয়েকবছর লেগে যাবে। আমার মতে, আমাদের এখনও ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে,” বলেন তিনি।