উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা বলেন, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে ফুল চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বছর আবার জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষিরা যথাসময়ে ফুল চাষ করতে পারেননি। এ কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। তবু চাষিরা ফুলের ভাল দাম পাচ্ছেন।
গত বছর এ উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হলেও চলতি বছরে ৭০ হেক্টর জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে বলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
উপজেলা ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, “এ বছর উৎপাদন কম হলেও ফুলের ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এ বছর কোটি টাকার ওপরে ফুলের ব্যবসা হবে এ উপজেলায়।”
উপজেলার সাবদী এলাকায় ফসলের ক্ষেতসহ বিভিন্ন বাড়ির সীমানায় ও সড়কের দুই পাশে ফুলের চাষ দেখা গেছে।
চাষিরা জানান, পহেলা ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে তারা এ বছর ভাল লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষিরা জমি ও বাগানে ফুলগাছের পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সাবদীর চাষি জাকির হোসেন বলেন, জমি অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পানিতে ডুবে ছিল বেশি দিন। এ কারণে তারা দেরিতে চারা রোপণ করেছেন। ফুল আসতেও দেরি হয়েছে।
“তবু ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই সব ফুল ফুটে যাবে। ফুলের বাজার গত বছরের তুলনায় ভাল।”
উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী, দিঘলদী, মাধবপাশা, আরজাদি, ফেলারদি, আখতলা, মুখকলদি, শেলসারদি ও বন্দর ইউনিয়নের চৌধুরীবাড়ি, চিনারদি, মোল্লাবাড়ি, কলাবাগ, নবীগঞ্জ তিনগাঁও এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হচ্ছে।
এসব জমিতে জারবেরা, রজনীগন্ধ্যা, জিপসি, চেরি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, হলুদা গেন্দা, চায়না গেন্দা, কাঠমালতি, কামিনী, বেলি, জবা, গন্ধরাজসহ ২৫ প্রজাতির ফুলের নাম পাওয়া গেছে।
ফুল চাষ দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এসব এলাকায় আসেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের পদচারণে এসব এলাকা মুখরিত থাকে বলে চাষিরা জানান।
শনিবার বিকালে স্ত্রী-সন্তানসহ সাবদী ঘুরতে এসেছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “অফিস বন্ধের দিনে পরিবার নিয়ে ফুলের রাজ্যে ঘুরতে এসেছি। বিভিন্ন প্রজাতির নানা রঙের একসঙ্গে ফোটা এত ফুল কখনও আগে দেখিনি। দেখে খুব ভাল লাগছে। ওরাও অনেক পছন্দের ফুল কিনেছে।”
শাম্মী আক্তার নামে এক নারী বলেন, “এত ফুল দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাচ্ছি। অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে।”