চট্টগ্রামে সরকারি
স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার
অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার মোজাম্মেল
হক (৪৩) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যার বাসিন্দা। তবে তিনি থাকেন নগরীর সদরঘাট
থানার কামালগেইট এলাকায়।
কোতোয়ালী থানার ওসি
নেজাম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মর্জিনা আক্তার নামে একজন নারীর করা
প্রতারণা মামলায় রোববার রাতে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মর্জিনার অভিযোগ, আট
মাস আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। গত জানুয়ারি মাসে মোজ্জাম্মেল
তার মৃত স্বামীর মোবাইলে ফোন করে তাকে তার স্বামীর বন্ধু এবং ২৫তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা
পরিচয় দেন। ওই সময় মোজাম্মেল সহায়তার প্রয়োজন পড়লে তাকে জানাতে বলেন।
ওসি নেজাম জানান, মর্জিনার
ছেলে সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে ভর্তির আবেদন করে লটারিতে নাম না আসার কথা জানান। এ
সময় মোজাম্মেল ওই নারীর কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জেলা
প্রশাসকের ভুয়া স্বাক্ষর সম্বলিত কাগজ দিয়ে মুসলিম হাই স্কুলে যেতে বলেন।
ওই নারী কাগজটি নিয়ে
স্কুলে গেলে কর্তৃপক্ষ সেটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।
২ ফেব্রুয়ারি তিনি সেটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গেলে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি
টের পান। এ সময় মোজাম্মেলকে টেলিফোনে না পেয়ে থানায় মামলা করেন।
ওসি নেজাম বলেন, “মোজাম্মেল
নিজেকে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে। সে পরিচয় দিয়ে গত
কোরবানির ঈদে কর্ণফুলী গরুর বাজারে গিয়ে এক ব্যাপারীর কাছ থেকে গরু নিয়ে আসে।
“পাশাপাশি মোজাম্মেল
নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয় দিয়ে লোকজনের সাথে প্রতারণা করে। অনেককে
সে নৌবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।”
মোজাম্মেল নিজেকে অনলাইন
টিভি চ্যানেল এস-এর প্রধান প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়েও ‘প্রতারণা করেন’ বলে জানান এই পুলিশ
কর্মকর্তা।
টিভি চ্যানেলটির নামে
অফিস ভাড়া নিয়ে দুই বছরের বেশি ভাড়া আটকে রেখে মালিককে ‘হুমকি দিতেন’ বলেও জানান তিনি।
মোজাম্মেলের কাছ থেকে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লেখা ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি নেজাম।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতারণার দায়ে জামাল উদ্দিন নামে একজনকে
সাজা দেওয়া হয়। তিনি মোজাম্মেলের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে ওসি জানান।