সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত ফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চতুর্থ ধাপে ৫৫ পৌরসভায় মেয়র পদে ১৪,৫৪,৪৮০ জন ভোটারের মধ্যে ৯,৫৫,২৪০ জন ভোট দিয়েছেন। সে হিসাবে এ ধাপে ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়ায় ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ৪৬ দশমিক ০৭ শতাংশ চট্টগ্রামের পটিয়ায়।
এর আগে ২৮ ডিসেম্বরের প্রথম ধাপে ভোটে ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারির ৬২ শতাংশ ও ৩০ জানুয়ারির তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট পড়ে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ভোট হবে।
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আর বর্জনের মধ্য দিয়ে পৌরসভার চতুর্থ ধাপের ভোট রোববার অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম তিন দুই ধাপের ভোটে গোলযোগ-সংঘর্ষ হওয়ায় এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাতেও সংঘাত এড়ানো যায়নি।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভায় ভোট চলাকালে দুটি পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার নির্বাচনে এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ উঠে। দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে একজন নিহতও হন।
এ নির্বাচন নিয়ে কমিশন যে সন্তুষ্ট তা ইসির নতুন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার রোববার জানিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সোমবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে ধারণা হচ্ছে, নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়। নির্বাচন অর্থ অনেকের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই। কিন্তু সে অবস্থা আজকাল পরিলক্ষিত হয় না।
“প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্বে নির্ধারিত? নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজন গ্রহণযেগ্য না হলে, কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত হতে পারে না “
এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশংকা করি। আচরণধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুসঙ্গ হয়ে গেছে। … সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের উদ্যোগ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ আবশ্যক।”
ফল: চার ধাপে আ.লীগ ১১৫, বিএনপি ১০ও স্বতন্ত্র ৩০
চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির ১ জন ও ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।
দলীয় প্রতীকে এ ভোটে মেয়র পদে তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির তিনজন ও স্বতন্ত্র ১৪ জন বিজয়ী হন।
দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৫ জন, বিএনপির চারজন, জাতীয় পার্টির একজন, জাসদের একজন ও আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন।
প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ জন, বিএনপির ধানের শীষের দুই জন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন।
আরও পড়ুন