ক্যাটাগরি

চট্টগ্রামকে মডেল শহর করব: রেজাউল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের
(সিসিসি) মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে একথা বলেন এই আওয়ামী
লীগ নেতা।

সুধী সমাবেশে চট্টগ্রাম
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক মেয়র
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। 

সমাবেশের পর বাটালি
হিলের অস্থায়ী নগর ভবনে গিয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব নেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

সুধী সমাবেশে সেবা
সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দাবিটি ঘুরে ফিরে সব বক্তার বক্তব্যে এসেছে। রেজাউলও সব
শ্রেণিপেশার মানুষের পরামর্শ গ্রহণ এবং সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।

সমাবেশে সর্বশেষ বক্তা
রেজাউল করিম বলেন, “পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মডেল শহর হিসেবে দাঁড়
করাতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। সেই সততা এবং বিশ্বাস আমার আছে। বিগত অর্ধ শতাব্দীর রাজনৈতিক
জীবনে অর্থবিত্ত আমাকে নীতিচ্যুত করতে পারেনি।

“কোনো অর্থবিত্তের
লোভ মোহ আমাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারবে না। লক্ষ্যে এগিয়ে যাবই। শতভাগ সততা নিয়ে জননেত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস ও আস্থাকে ধারণ করে চট্টগ্রামকে মনের মত সাজিয়ে
তুলব।”

সবার সহযোগিতা চেয়ে
নতুন মেয়র বলেন, এখানে সাংসদ, মন্ত্রী, সেবা সংস্থার প্রধানরা, সাবেক মেয়ররা, মুক্তিযোদ্ধা
এবং প্রগতিশীল চেতনার লোকজন আছেন।

“অতীতে কী হয়েছে তা
বিবেচ্য নয়। সবার সহযোগিতা চাই। আমি যে কারও পরামর্শ গ্রহণ করতে রাজি। পরামর্শ নিতে
কোনো সংকীর্ণতা নেই আমার, কারণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন চাই। যদি সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে
উদার দৃষ্টি নিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে কোনো বাধাই বাধা নয়। সবাইকে মনে করতে হবে, এ
শহরের প্রতি আমারও দায়িত্ব রয়েছে।”

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব
পালনে ‘পুরনো ধারা ভেঙে দিতে’ চান জানিয়ে রেজাউল বলেন, “এ চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের নয়,
আপনার-আমার সবার। এই শহরে সব শ্রেণি-পেশার অনেক মেধাবী মানুষ আছেন যাদের পরামর্শ কাজে
লাগাতে চাই। সফলতা আসলে তা হবে সকলের। আমি শুধু মুখপাত্র, আপনাদের প্রতিনিধি মাত্র।”

সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি
বলেন, “সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে যারা গাফিলতি করবে তাদের জবাব দিতে হবে। সবাই তো উন্নয়ন
কাজ করছে, একযোগে করতে অসুবিধা কী?

“এখানে অনেকেই বলেছেন
এক্ষেত্রে মেয়রের নির্বাহী ক্ষমতা থাকা উচিত, সবার সাথে সমন্বয় করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
প্রত্যেকের একটি কথা, সমন্বয়হীনতার কারণে যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা তা হয়ত বাধাগ্রস্ত
হচ্ছে। সব সেবা সংস্থার প্রধানরা যদি এগিয়ে আসেন আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করব।”

‘সমন্বয়ে’ জোর নেতাদের

সিসিসির সাবেক মেয়র
প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রথম সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য নগর
সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন।

এরপর মেয়র মনজুর আলমও
নিজ মেয়াদে একই দাবি জানান। সদ্য সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে
সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়ে একাধিক সভা করেন। তবে সবার সহযোগিতা না পাওয়ায় সমন্বয় সম্ভব হয়নি
বলে তার দাবি।

এদিন সুধী সমাবেশে
আবারও ঘুরে ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায়
এসেছে।

সদ্য বিদায়ী প্রশাসক
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, যতক্ষণ সরকার আইন করে সব সেবা
সংস্থার উপর সিসিসির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না করবে ততক্ষণ প্রত্যাশা থাকবে বেশি, কাজ
করতে পারবে কম।

“মানুষের উপর ট্যাক্স
বাড়িয়ে করপোরেশনের আয় বাড়ানো যাবে না। শহরকে যারা ব্যবহার করছে সেসব সংস্থার সারচার্জ
আইন করে নির্ধারণ করতে হবে। নগরীর ৬০ লাখ মানুষ আপনার (মেয়র) সাথে থাকবে। আপনার সফলতা
মানে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা।”

হুইপ সামশুল হক চৌধুরী
বলেন, “বিভিন্ন সংস্থার কাছে সিটি করপোরেশন যে সারচার্জ দাবি করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
এটার প্রতি নীতিগত সায় দিয়েছেন। বন্দর তার আয় থেকে যদি কমপক্ষে ২০% দেয় তাহলে করপোরেশন
সব উন্নয়ন কাজ করতে পারবে। বন্দর উপদেষ্টা কমিটিতে আমরা আছি। প্রয়োজনে আমরা নেতৃবৃন্দ
সেখান থেকে রেজ্যুলুশন করব। 

“এখানে অনেকে মেয়রকে
পদমর্যাদা দিতে বলেছেন। কাকে কোন পদমর্যাদা দেবেন সেটা প্রধানমন্ত্রী জানেন। কেউ সুপারিশ
করলে দিবে না। আপনি ভোট পেয়েছেন, দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী জনতার নেতা
ছিলেন আবার দক্ষ প্রশাসকও ছিলেন। তাকে অনুসরণ করতে হবে।”

মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষা
উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মেয়র
হিসেবে উপহার দিয়েছেন। সিসিসিতে মেয়র পদে তিনি দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা। যে কর্ম উদ্যম
উনার কাছে আমরা চাই তার প্রমাণ, আজ সবার মতামত নিয়ে তিনি শুরু করলেন।

“প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা,
সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কোনো বিভেদের প্রয়োজন নেই। সব সরকারি সংস্থাকে সাথে নিয়ে
এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের চাওয়া খুব সীমিত। দুর্নীতি সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি
এ শহরে চাই না। আমরা খুন-খারাবি মুক্ত চট্টগ্রাম শহর চাই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আমরা
চাই সত্য। সেটা কখনোই সম্ভব হবে না যদি সবাই দায়িত্ব না নেয়।”

নওফেল বলেন, “পিছনের
দিকে নয়, সামনের দিকে প্রগতির দিকে, ঐক্যের দিকে ও সমন্বয়ের দিকে তাকাতে চাই। আমরা
জনপ্রতিনিধারাও সম্পৃক্ত হতে চাই। আমরা যারা সরকারের সাথে কাজ করছি, যদি আপনাদের সাথে
আমাদের সমন্বয় সুন্দর হয় তাহলে অবশ্যই সুন্দর অগ্রগতি হবে।”

সাংসদ মোছলেম উদ্দিন
আহমদ বলেন, “অনেকে পদে গেলে সবজান্তা হয়ে যান। সিডিএতে আমার মামা (আবদুচ ছালাম) যখন
ছিলেন, ফ্লাইওভার দরকার ছিল কি না তা কারও কাছে জানতে চেয়েছেন কি না জানি না। তবু উনিও
অনেক কাজ করেছেন।

“জননেত্রী চট্টগ্রামকে
ভালোবাসেন বলে অনেক কিছু দিয়েছেন। সেটা আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের
সাথে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা রেজাউল করিম চৌধুরীকে নয়, চট্টগ্রামবাসীকে সহযোগিতা
করব। প্রশাসক হয়ে ছয় মাসে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সুজন। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অনুসরণ করতে
হবে। জনপ্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর চট্টগ্রামের প্রতি দেশপ্রেম ছিল। পারলে এই চট্টগ্রামকে
তিনি স্বাধীন করে ফেলতেন, এ রকম ছিল তার আন্তরিকতা।”

সাবেক মেয়র মাহমুদুল
ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমার সময়ে ৩০ বছর আগে সাত সেবা সংস্থার প্রধান অফিশিয়াল কমিশনার
হিসেবে সভায় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল। ’৯১ সালে বিএনপি তা বাতিল করে দেয়। মহিউদ্দিন
চৌধুরী মেয়র হওয়ার পরে প্রতিটি আইনগত বিষয়ে তিনি আমার পরামর্শ নিতেন।

“প্রধানমন্ত্রী অনেক
কাজ করছেন, কিন্তু সুফল মানুষ পাবে কি না জানি না। মাননীয় মেয়র আপনার ইজ্জত চট্টগ্রামের
ইজ্জত। প্রতিমন্ত্রী নয়, পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা চট্টগ্রামের মেয়রকে দিতে হবে। দুদককে
ভয় পেয়ে কাজ করবেন না। অনেক কাজ করতে হলে মামলার আসামিও হতে হবে।”

অন্যদের মধ্যে সাংসদ
নজরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডিএ
চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর
রহমান, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী
লীগের সভাপতি এম এ সালাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, চেম্বার
সভাপতি মাহবুবুল আলম, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার
মোজাফফর আহমদে, চবি’র সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, ডা. শেখ শফিউল আজম, আইইবির
সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, বর্ষীয়ান কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু,
জাসদ নেতা জসিম উদ্দিন বাবুল, প্রকৌশলী মো. হারুন, ওয়াসার এমডি মো ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ চক্রবর্তী, চুয়েট উপাচার্য ড. রফিকুল আলম বক্তব্য
রাখেন।