ক্যাটাগরি

অভিজিৎ হত্যার রায় ঘিরে আদালতে নিরাপত্তা

ঢাকার
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলার রায়
ঘোষণা করবেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।


রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আর্চওয়ে বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ।

মামলার
আসামিরা হলেন- সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া,
মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস্), আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ এবং উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী।

তাদের মধ্যে
জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন, বাকি চারজনকে রায়ের জন্য কারাগার থেকে
আদালতে এনে হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

ফারাবী
ছাড়া বাকি সবাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।

অভিজিৎ রায়

অভিজিৎ রায়

২০১৫
সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে
স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি কায়দায় হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী।

পদার্থবিদ
অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও তিনি বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন।

ঘটনার
পর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অধ্যাপক অজয় রায় (বর্তমানে প্রয়াত)। ঢাকা মহানগর
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হাত ঘুরে মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হাতে যায়।

হত্যাকাণ্ডের
চার বছর পর ২০১৯ সালের
১৩ মার্চ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। অভিযোগের পক্ষে ৩৪ জনকে সাক্ষী
করা হয়।

ঢাকার
সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ওই বছর ১
অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার ছয়
আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে
নাম থাকা রাষ্ট্রপক্ষের ৩৪ জন সাক্ষীর
মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের
পর কারাগারে থাকা চার আসামি গত ২৭ জানুয়ারি
আদালত নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।


ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির আসামিদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেন।

দুই
পক্ষের যুক্ততর্ক শুনানি শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি
বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলার রায়ের
জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ
রাখেন।