ক্যাটাগরি

বিদায় বলে দিলেন বাংলাদেশকে হারানো ডাচ নায়ক

গত প্রায় এক দশকে ডাচদের
ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা ছিলেন তিনি। পাশাপাশি করতে কিপিং। মাঝেমধ্যে হাতে নিতেন বলও।

টুইটারে সোমবার সব ধরনের
ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সেখানে উঠে এলো আইসিসি সহযোগী
একটি দেশের ক্রিকেটারের লড়াই ও মনোবেদনাও।

“ তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ
করতে পারা তো বটেই, দেশের হয়ে লম্বা সময় খেলতে পারা, দারুণ সব অর্জনের স্বাক্ষী হওয়া
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ১৮ বছর ধরে এটা করতে পারার তৃপ্তি পাওয়া অনেক বড় সম্মান ও
প্রাপ্তি আমার জন্য।”

“ ক্রিকেটবিশ্ব পুরোপুরি
জানে না একজন সহযোগী দেশের ক্রিকেটারের ত্যাগ, নিবেদন ও আত্ম-অনুপ্রেরণার গল্প। স্মরণীয়
সব স্মৃতিগুলোর দিকে আমি পেছন ফিরে তাকাই এবং জানি যে, এসব আমাদের নিজেদেরই করতে হয়েছে।”

বারেসির জন্ম দক্ষিণ
আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। সেখানেই বেড়ে ওঠা ও ক্রিকেটের হাতেখড়ি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও
শুরু দক্ষিণ আফ্রিকাতেই, ২০০৪ সালে। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন নেদারল্যান্ডসের
হয়ে। ওয়ানডে দিয়ে অভিষেক ২০১০ সালে। ওই বছরই তিনি দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন বাংলাদেশের
বিপক্ষে।

নিজের ষষ্ঠ ওয়ানডেতে
প্রথম ফিফটির স্বাদ পান তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে। পরের ম্যাচেই গ্লাসগোতে বাংলাদেশের
বিপক্ষে ৪৩ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে নায়ক হন অবিস্মরণীয় জয়ের।

বাংলাদেশে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩.৫ ওভারে ১৯০ রান তাড়ার করার সেই ম্যাচে ২২ বলে
৪০ রান করে অপরাজিত ছিলেন বারেসি। ওই বিশ্বকাপেই চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়া
ম্যাচে খেলেছিলেন ৪৮ রানের ইনিংস। মনে রাখার মতো ইনিংস আছে তার আরও অনেক।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটে তার রান ১ হাজার ৭২৬। ডাচদের হয়ে তার চেয়ে বেশি রান আছে কেবল রায়ান টেন ডেসকাটের।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বারেসির ২ হাজার ৮৭১ রান ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ।

বিদায় বেলায় বারেসি
বললেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন ছিল। মেনে নেওয়াও কষ্টের। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তেই
স্বস্তি খুঁজে পেয়েছি।”