ক্যাটাগরি

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ঘিরে ‘অশ্রদ্ধা’, ক্ষুব্ধ মাহতাব

শনিবার
বিকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে নগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা
দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

নগর আওয়ামী
লীগে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে নতুন করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর।

এ নিয়ে
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কমিটি গঠন এবং নগর কমিটির সভাপতি
ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসতে পারে বলে বলা হয়। এ দুই পদে আগ্রহী নেতাদের বক্তব্যও
প্রকাশিত হয়।

এ বিষয়ে
ইঙ্গিত করে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা সমীচীন
হবে না। যদি তা করি সেটা হবে আত্মঘাতী। লক্ষ করা যাচ্ছে, এখন অনেকে নিজেকে যোগ্য হিসেবে
জাহির করার একটি প্রবণতা মাথা চাড়া দিয়েছে। সংগত কারণেই বলতে পারি, আমরা যারা আছি তারা
কি অযোগ্য?

“কারও যদি
কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে সেটা দলের শৃঙ্খলা নীতিমালা অনুযায়ী আমাদেরকে এবং দলীয় হাই
কমান্ডকে অবগত করা যেতে পারে। এই দলে এক সময় এই চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর পাশে এম এ আজিজ,
জহুর আহম্মেদ চৌধুরী, ইসহাক মিয়া, মানিক চৌধুরী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। উনারাই ছিলেন
দুঃসময়ে দলের কাণ্ডারি। তাদেরকে এক সময় এই নগরীর পথে ঘাটে মুসলিম লীগের গুণ্ডা-পাণ্ডারা
শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। তাদেরই প্রেতাত্মারা যদি দলে ঢুকে গিয়ে ফায়দা লুটে এবং
বিভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

মাহতাব
বলেন, “দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, আমরা একে অপরের
চরিত্র হনন বা অশ্রদ্ধা করব। যারা এহেন কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত তাদেরকে ভবিষ্যতে বিনয়ী
হওয়ার আহ্বান জানাই এখন থেকে।”

২০১৩ সালের
নভেম্বরে ঘোষিত ৭১ সদস্যের নগর কমিটির মেয়াদ দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর। সে হিসেবে
বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও চার বছর পেরিয়ে গেছে।

২০১৭ সালের
১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা গেলে সেদিন রাতে তার চশমা হিলের বাসায় অনানুষ্ঠানিক
বৈঠকে বসেছিলেন নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।


মাহতাবকে ‘ভারমুক্ত’ করতে নাছিরের প্রস্তাব
 

চট্টগ্রাম নগর আ. লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব চৌধুরী
 

বিরোধ সামনে নিয়ে এল আ জ ম নাছিরকে
 

সেই বৈঠকে
মাহতাব চৌধুরীকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা নিলেও সাধারণ সম্পাদক
আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা শুরুতে তাতে রাজি ছিলেন না।

তারপর ওই
বছর ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সফরে এসে প্রথম সহ-সভাপতি মাহতাবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে
দায়িত্ব দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

মাহতাব
চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত জহুর আহমদ চৌধুরীর মেজ ছেলে। সবশেষ গত বছরের
সেপ্টেম্বরে মাহতাবকে পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত সভাপতি পদে পদায়নের দাবি তোলেন সাধারণ
সম্পাদক নাছির।

কমিটির
সদস্যদের সম্মতি নিয়ে ওই প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হলেও এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত
আসেনি।

করোনাভাইরাস
মহামারীর কারণে ১০ মাস পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি হওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন
চেয়েও পাননি নাছির।

দলের মনোনয়ন
পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়া নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
রেজাউল করিম চৌধুরী এবং মাঝের ১০ মাস প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করা সহ-সভাপতি খোরশেদ
আলম সুজন দুজনই মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শনিবারের
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।
তবে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

নাছির বলেন,
“একুশ আমাদের চেতনাকে শাণিত করে বলে আমরা বার বার কঠিন দুঃসময়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি।
আজ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হলেও আমাদের নতুন প্রজন্মের
একটি বৃহৎ অংশ মাতৃভাষা বিমুখ।

“মধ্যবিত্ত
ও বিত্তবান শ্রেণির পরিবারের অনেক সন্তানই জানে না একুশ কী। এবং বাংলা ভাষার চর্চা
ও পরিচর্যার বিষয়টি তাদের মাঝ থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ আমরা অভিভাবকরাই আমাদের সন্তানকে
যদি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করাতে পারি সেই জন্য উদগ্রিব হয়ে থাকি। মাতৃভাষায়
সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্যের যে নির্যাসটুকু আছে তা কিছুতেই সন্তানদের আস্বাদ করতে দেই
না।”

নাছির বলেন,
“আমরা বাঙালি এই সত্যটিকে উপলব্ধি করতে না পারলে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ হবে
না। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করে দেশপ্রেমে নিজেদেরকে
উৎসর্গ করি।”

নগর আওয়ামী
লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি
নঈম উদ্দীন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী ও সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সাংগঠনিক
সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাউন্সিলর শহিদুল আলম, উপ-দপ্তর
সম্পাদক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর প্রমুখ।