ক্যাটাগরি

পরীক্ষার ঘোষণার পর সড়ক ছাড়লেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

বুধবার বিকাল বিকাল পৌনে ৪টার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানোর পর শিক্ষার্থীরা মিরপুর রোড থেকে সরে গেলে প্রায় সাত ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় দিনের মতো নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়। দুপুরে সায়েন্স ল্যাব মোড়ও অবস্থান নেন একদল।

এতে যানজটের কবলে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক। ফলে আশপাশের সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট গাবতলী পর্যন্ত ছড়ি যায় গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (তেজগাঁও) অতিরিক্ত উপকমিশনার মনজুর মোর্শেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে পুরো মিরপুর রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা গাবতলী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

যানবাহনগুলোকে বিকল্প রাস্তায় বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর সড়কে যানজট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ফার্মগেট-শাহবাগ রোডের ওপর গাড়ির চাপ বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাসেল সরকার জানান, প্রথমে সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউ মার্কেটগামী গাড়িগুলো নিউ এলিফ্যান্ট রোড হয়ে কাঁটাবন দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পরে সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থানের কারণে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।

তবে কাঁটাবন মোড় হয়ে নীলক্ষেত-পলাশী মোড় দিয়ে ঢাকেশ্বরী হয়ে যান চলাচল করছে। তবে ওই রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর।

এর মধ্যেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুপুরে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য এবং সাত কলেজের অধ্যক্ষরা ওই ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন।

বিকাল পৌনে ৪টার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এলে সড়কে অবস্থান নিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

আনন্দ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে দিতে তারা ফিরে গেলে বিকাল ৪টার পর থেকে সড়ক আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও অধ্যক্ষদের এক সভায় সাত কলেজের সব পরীক্ষা ২৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে ফিরে গিয়েছিলেন তারা। বুধবার শিক্ষার্থীরা ফের রাস্তায় নামলে এই যানজটের কবলে পড়তে হয় যাত্রীদের।

বুধবার সকালে অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা রুটিন অনুযায়ী চলমান পরীক্ষা নেওয়াসহ আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।