রোববার বিকাল ৩টায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে তারা কর্মসূচি শুরু করেন।
এই দুই শিক্ষার্থী
হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নুর হোসাইন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের নাঈম শেখ।
তাদের সঙ্গে কর্মসূচিতে
একই বর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
২৬ মাস ধরে তৃতীয় বর্ষে
থাকলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে না পারায় এ কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে তাদের
ভাষ্য। আগামী ঈদ-উল-ফিতরের আগে যেকোনো মূল্যে তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার
দাবি জানিয়েছেন তারা।
অনশনে থাকা প্রাণিবিদ্যা
বিভাগের শিক্ষার্থী নুর হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত তিন বছর যাবত
তৃতীয় বর্ষে আছেন তারা। পরীক্ষার জন্য উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিলে তিন কার্যদিবসের
মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তিনি। এক মাস হলেও কোনো উত্তর আসেনি।
“আজ উপাচার্যের
সঙ্গে কথা বললে তিনি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে
জানান। আমরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
অনশনে থাকা ভূগোল ও
পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম শেখ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে স্নাতক শেষ করতে না পারা।
এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
“আমরা যেকোনো
মূল্যে ঈদের আগে পরীক্ষা শেষ করতে চাই। সেটা হোক অনলাইনে বা অফলাইনে। তা না হলে এটা
আমাদের জন্য চাপ হয়ে যাবে।”
এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টার
দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানসহ প্রক্টরিয়াল টিম,
প্রাধ্যক্ষ্য কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন শিক্ষকরা এসে
অনশনরত শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অনশনরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার তারিখ
না দেওয়া পর্যন্ত এখানে থাকবেন বলে জানান।
এই সময় প্রাণরসায়ন
ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,
“আমরা মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি। আমরা আশা করব তারা এই অনশন
তারা প্রত্যাহার করবে।”
“যেহেতু কোভিড-১৯
পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়া কোনো একক সিদ্ধান্ত না; এটি একটি জাতীয়
ইস্যু, তাই পরীক্ষার বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করব।”
এর আগে তৃতীয় বর্ষের
চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষের কোনো
সাড়া না পাওয়ায় ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি
দেন তারা।
উপাচার্য তিন কার্যদিবসের
মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন বললেও এক মাসেও কোন সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানান অনশনরত শিক্ষার্থী
নাঈম শেখ।
নাঈম শেখ আরও বলেন,
“আজ সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের সাথে কথা বললে তিনি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে
গিয়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে জানান। এরপরই আমরণ অনশনে বসেছি আমরা দুইজন।”
এই ব্যাপারে উপাচার্য
অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তার একান্ত সচিব ছানোয়ার
হোসেন ফোন ধরেন। একান্ত সচিব উপাচার্যের ব্যস্ততার কথা বলে পরে ফোন করতে বলেন। পরবর্তীতে
আবার ফোন করলে ফোন ধরেননি।