পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআইর
পরিবর্তে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
রেজাউল করিম (৩০) নামের
ওই শিক্ষানবিশের বাবার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি
মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে
শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল
মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
পরে আইনজীবী মোহাম্মদ
শিশির মনির বলেন, “বরিশালের আদালত এ ঘটনা পুলিশকে (পিবিআই) তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আজ হাই কোর্ট বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ
পুলিশের পরিবর্তে এখন বিচারিক তদন্ত হবে।”
গত বছর ২৯ ডিসেম্বর
বরিশালের গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার পর ২ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান রেজাউল। পুলিশের
নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরে এ অভিযোগে গত ৫
জানুয়ারি মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী। মামলায় জেলা
গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে করা
হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে হামিদ খান সড়কে রেজাউলকে একা পেয়ে বিনা অপরাধে মারধর করেন
এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজন। এরপর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে ধরে নিয়ে
যায় পুলিশ। রাতভর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
পরদিন তাকে অসুস্থ
অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রেজাউলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি
হলে তাকে ১ জানুয়ারি রাতে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাতে রেজাউল মারা যান।
অভিযোগ আমলে নিয়ে ওইদিনই
মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মামলটির তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইকে ২৩ ফেব্রুয়ারির
মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ আদেশের বিরুদ্ধে
গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে আবেদন করেন রেজাউলের বাবা। আবেদনে বিচারিক তদন্তের আরজি
জানানো হয়।
কোন যুক্তিতে মামলার
বাদি হাই কোর্টে আবেদন করেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “রেজাউল করিমের
বাবা ইউনুস মুন্সী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। তখন তিনি বরিশাল
মহানগর হাকিম আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। আদালত মামলাটি
আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
“অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
আর মামলাটির তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তাই ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে বাদির
সংশয় তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে এ আবেদন করেন
তিনি।”
এ ঘটনায় এসআই মহিউদ্দিন
আহমেদকে গোয়েন্দা শাখা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রত্যাহারের কারণটি
প্রশাসনিক বলে জানিয়েছিলেন বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান।