ক্যাটাগরি

বিনিয়োগ বাড়াতে হলে করহার নিয়ে ভাবতে হবে: ফিকি

বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগী অন্য দেশগুলোর দেওয়া সুবিধা
বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশেও সেই ধরনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিকির
পক্ষ থেকে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি রূপালী চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের উপর কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে
অন্যান্য দেশে কী ধরনের কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, তা বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

রূপালী চৌধুরী

রূপালী চৌধুরী

এজন্য এনবিআরের সিদ্ধান্ত যে গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরে
তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা দেখবে, অন্য দেশগুলো তাদের কী সুবিধা দিচ্ছে। আমরা যদি
প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারি,
তাহলে বিনিয়োগ আসবে।”

এই ব্যবসায়ী নেতা গত বাজেটে কোম্পানির পণ্য সম্প্রসারণ
ব্যয়ের করমুক্ত সীমা মোট বিক্রয়মূল্যের দেড় শতাংশ বেঁধে দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি অগ্রিম আয়কর বেশি হওয়া, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকালে
অনেক পরিবর্তন হওয়া, আয় না হলেও কোম্পানির বার্ষিক বিক্রির উপর কর প্রদানের ০.৫
শতাংশ বাধ্যবাধকতাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ তুলে ধরেন।

‘আয় না হলে কেন কর দেব’- ব্যবসায়ীদের এই দাবির কথাও বলেন
রূপালী।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা অনিয়ম করেন, তাদের ধরার ক্ষেত্রে
অনাপত্তি পাশাপাশি গুটিকয়েকের জন্য সবাইকে ক্ষতির মুখে না ফেলার আহ্বান জানান ফিকি
সভাপতি।

তার দাবি, ভ্যাট আইন শুরুতে যেভাবে ছিল, তা থেকে অনেক
দূরে সরে এসেছে। আগাম মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থা থাকবে না বলা হলেও ইনপুট কোইফিশিয়েন্ট
দিয়ে এনবিআর সেদিকেই গেছে।

বেজায় (অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) জমি কেনায় আগে ভ্যাট
না থাকলেও এখন ১৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের
প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয় নগদ লেনদেনকে নিরুসাহিত করতে ব্যাংকে একটি
নির্দিষ্ট সীমার উপরে নগদ জমায় কর আরোপ, সম্পদ করহার কমিয়ে আনা, ব্যাংক হিসাব
খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তার বিকল্প
চিন্তা করার পরামর্শ দেন।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম
আমদানিতে মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থার পরিবর্তে আগামীতে একটি নির্দিষ্ট মূল্য ঠিক করে
দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, “আমরা মূল্য ঘোষণা বাতিলেরই চিন্তা করছি।”

এ সময় ভুয়া অডিট রিপোর্ট ঠেকাতে তা যাচাইয়ের জন্য
ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিভিএস ছাড়া কোনো অডিট রিপোর্ট
দিলে তা গ্রহণ করা হবে না। ব্যাংকগুলো যাতে এটি পরিপালন করে। নইলে তা বাতিল হয়ে
যাবে।