বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টার সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা।
মৃতদেহ দুটি দেখেছেন বলে দাবি করা একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, দুই বিক্ষোভকারীই গুলিতে জখম হয়ে মারা গেছেন।
তিনটি গণমাধ্যম সংস্থা, ঘটনাস্থলে যাদের প্রতিনিধি আছে তারাও এ হত্যাকাণ্ডের খবর দিয়েছে।
এর আগে মান্দালয়ে পুলিশের রবার বুলেটে নয় জন জখম হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাও জানিয়েছিল।
অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে শহরটিতে কাঁদুনে গ্যাসের ধোঁয়ার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে দেখা গেছে। শিক্ষকদের ইউনিফর্ম পরা এক নারী আর্তনাদ করে বলে ওঠেন, “ওহ্ আমার চোখ, চোখ ব্যথা করছে।”
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশন্স (এএসইএএন) জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানাতে পারেনি।
১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রুদ্ধ হয়ে গেছে।
অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক শাসন বিরোধী গণতন্ত্রপন্থিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। প্রথম দিকে সংযম দেখালেও গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ দমনে সহিংসপন্থা নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশের গুলিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ২১ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন।
সহিংসতায় একজন পুলিশও নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে।