গতবছরের শেষে দেশে
প্রথমবারের মত সুকুক চালু হওয়ার পর বেসরকারি খাতে এটাই হবে সবচেয়ে বড় শরিয়াহ
বন্ড।
মঙ্গলবার বেক্সিমকোর
পর্ষদ সভায় সুকুক বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বুধবার তা স্টক ঢাকা এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানানো
হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ
অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেলে এই বন্ডের নাম হবে বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিস্না।
বেক্সিমকো এই বন্ড থেকে
সংগ্রহ করা অর্থ কোম্পানির সাবসিডিয়ারি দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র তিস্তা সোলার
লিমিটেড এবং করতোয়া সোলার লিমিটেডের নির্মাণ কাজে ব্যয় করবে।
পাশাপাশি বেক্সিমকোর
বস্ত্র খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে এই তহবিলের
টাকায়।
পাঁচ বছর মেয়াদী এই বন্ড
দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেও তালিকাভুক্ত হবে। প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে
১০০ টাকা। ৫০টি সুকুক বন্ড নিয়ে হবে একটি লট। একটি লট কিনতে বিনিয়োগকারীদের ৫
হাজার টাকা দিতে হবে।
শরিয়াহভিত্তিক বন্ড সুকুককে বিবেচনা করা
হয় বিনিয়োগ সনদ হিসেবে, যার বিপরীতে সম্পদের মালিকানা দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
বিনিয়োগের জন্য তারা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পান।
বেক্সিমকো জানিয়েছে, তাদের সুকুক বন্ডে ৯
শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে মার্জিন যোগ করে ছয় মাস অন্তর বন্ডটিতে বিনিয়োগের
বিপরীতে মুনাফা দেওয়া হবে।
বেক্সিমকো
সুকুক আল ইসতিস্না হবে কনভার্টেবেল। অর্থাত্ এ বন্ডে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ বেক্সিমকো লিমিটেডের
শেয়ারে রূপান্তরেরও সুযোগ পাবেন।
যদি কোনো বিনিয়োগকারী
সুকুককে শেয়ারে রূপান্তর না করেন, তাহলে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সুকুকের অবসায়ন
হবে।
এই
সুকুক বন্ডের মূল ইস্যুয়ার হবে বেক্সিমকো লিমিটেড।
কারা এই বন্ড পাবে?
এই
তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ বা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাইভেট
প্লেসমেন্টর মাধ্যমে তোলা হবে।
৭৫০
কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ পাবেন বেক্সিমকো লিমিটেডের বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা।
বাকি
৭৫০ কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিক্রি করে তোলা হবে।
কত টাকা মুনাফা হবে?
১০০
টাকা দামের বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিস্নায় বিনিয়োগ করলে প্রতি ৬ মাসে মিলবে মুনাফা।
সর্বনিম্ন মুনাফা হবে বছরে ৯ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হবে মার্জিন।
বেক্সিমকো
জানিয়েছে তারা আগের বছর যে লভ্যাংশ দেবে, সেখান থেকে ৯ শতাংশ বাদ দিয়ে যা বাড়তি
হবে তার ১০ শতাংশ সুকুক এর মুনাফার সাথে যোগ হয়ে যাবে।
অর্থাত্,
যে বছর মুনাফা হিসাব করা হবে, তার আগের বছর যদি বেক্সিমকো লিমিটেড ১৫ শতাংশ
লভ্যাংশ দেয়, তাহলে বেক্সিমকো সুকুক আল ইসতিস্নার ৯ শতাংশ মুনাফার সাথে যাগ হবে
আরও শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ।
যদি
আগের বছর বেক্সিমকো ৯ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়, তাহলে এই সুকুক এর মুনাফা ৯ শতাংশই
থাকবে।
কীভাবে শেয়ারে রূপান্তর হবে
এই
বন্ডের বিনিয়োগকারী চাইলে তাদের ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ বেক্সিকোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে
পারবেন ৫ বছর সময়কালে।
প্রতি
বছর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বন্ড শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫
শতাংশ বা ৫ শতাংশের গুণিতক হারে শেয়ারে রূপান্তর করা যবে।
কোনো
বছর কেউ বন্ড শেয়ারে রূপান্তর না করলে পরের বছর ২০ শতাংশের সাথে আগের বছরের বাকি
অংশ শেয়ারে রূপান্তর করার সুযোগ পাবনে।
কোনো
বন্ড হোল্ডার তার বিনিয়োগ শেয়ারে রূপান্তর করতে না চাইলে ৫ বছর শেষে তার টাকা ফেরত
পেয়ে যাবেন।
দাম বেড়েছে বেক্সিমকোর
শেয়ারের
তিন
হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছাড়ার খবরে বুধবার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম
বেড়েছে পুঁজিবাজারে।
মঙ্গলবার
বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হচ্ছিল ৮৫ টাক ৪০ পয়সায়, বুধবার তা বেড়ে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা
হয়েছে।
১৯৮৯
সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে।
বেক্সিমেকার
বর্তমান বাজার মূলধন ৭ হাজার ৪৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৮৭৬
কোটি ৩২ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।