ক্যাটাগরি

আকসার-অশ্বিনের স্পিনে তিন দিনেই জিতে ফাইনালে ভারত

আহমেদাবাদের
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে চতুর্থ ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ইনিংস ও ২৫ রানে
হারিয়েছে ভারত। দলটির বিপক্ষে ইংলিশদের এটি সপ্তম ইনিংস ব্যবধানে হার।

চার ম্যাচের
সিরিজটি স্বাগতিকরা জিতে নিয়েছে ৩-১ ব্যবধানে। উঠে এসেছে আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের
শীর্ষে। সঙ্গে নিশ্চিত করেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা। সেখানে তাদের
প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড।

প্রথম ইনিংসে
ইংল্যান্ডকে ২০৫ রানে থামানো ভারত একমাত্র ইনিংসে করে ৩৬৫ রান। ১৬০ রানের লিডই
যথেষ্ট হলো আকসার, অশ্বিনদের জন্য। তাদের স্পিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৫ রানে
গুটিয়ে যায় জো রুটের দল।

সফরকারীদের ১০
উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন দুই স্পিনার। ব্যাট হাতে অবদান রাখা আকসার বল হাতেও ছিলেন
দুর্দান্ত। ৪৩ রান করার পর বাঁ হাতি স্পিনে নেন ৪৮ রানে ৫ উইকেট। অফ স্পিনার
অশ্বিনের প্রাপ্তি ৪৭ রানে ৫টি।

টানা তিন টেস্টে
৫ উইকেট নিয়েছেন আকসার। আর অশ্বিনের টেস্টে এটি ৩০তম ৫ উইকেট। এই সংস্করণে সবচেয়ে
বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে নাম লিখিয়েছেন জেমস অ্যান্ডাসনের
পাশে।

ভারতকে দেড়শ
ছাড়ানো লিড এনে দিতে রিশাভ পান্তের পর দারুণ একটি ইনিংস খেলেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও সঙ্গীর অভাবে অধরা হয়ে থাকলো সেটি। আট নম্বরে নেমে
তিনি খেলেছেন অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস।

৭ উইকেটে ২৯৪
রান নিয়ে শনিবার দিন শুরু করে ভারত। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন আগের
দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সুন্দর ও আকসার।

ইংলিশ বোলারদের
সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তারা। গড়েন শতরানের জুটি। আস্থার সঙ্গে খেলে আকসার ফিফটি ও
সুন্দর সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন। এর মধ্যেই ৪৩ রানে আকসার রান আউট হলে ভাঙে
তাদের ১০৬ রানের জুটি। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ৯৭ বলের ইনিংসে ৫ চার ও এক ছক্কা।

৯৬ রানে থাকা
সুন্দরের সেঞ্চুরি তখনও ছিল ধরাছোঁয়ার মধ্যে। কিন্তু বেন স্টোকসের বলে ইশান্ত
শর্মা এলবিডব্লিউ হওয়ার দুই বল পর বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ সিরাজও। তাতে শেষ হয়ে
যায় ভারতের ইনিংস।

অন্য প্রান্তে
থেকে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখেন সুন্দর। মাঠ ছাড়েন ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে। তার ১৭৪
বলের ইনিংসটি সাজানো ১০ চার ও এক ছক্কায়।

স্পিন সহায়ক
উইকেটে দারুণ বোলিং করেন স্টোকস। ৮৯ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। অ্যান্ডারসনও ছিলেন
ছন্দে। ৪৪ রানে দিয়ে তার প্রাপ্তি ৩ উইকেট।

ব্যাটিংয়ে নামা
ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে তারা
হারায় জ্যাক ক্রলি ও জনি বেয়ারস্টোর উইকেট।

অশ্বিনের
স্পিনে স্লিপে ক্যাচ দেন ক্রলি। পরের বলেই লেগ স্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন
বেয়ারস্টো। দুর্ভাগ্যজনক আউটে ফিরে যান ডম সিবলিও। শর্ট লেগ ফিল্ডারের গায়ে লেগে
উপরে উঠে যায় তার শট। সহজ ক্যাচ নেন পান্ত।

আকসার পরে
দ্রুত ফিরিয়ে দেন স্টোকসকে। এই চার ব্যাটসম্যানের একজনও যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

৩০ রানে ৪
উইকেট হারানো দলের হাল ধরার চেষ্টায় ব্যর্থ হন জো রুট ও অলি পোপ। পরপর দুই ওভারে
ফিরে যান দুইজন। আকসারের বলে স্টাম্পড হন ১৫ রান করা পোপ। অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ
হন ইংলিশ অধিনায়ক। ৩ চারে ৭২ বলে তিনি করেন ৩০ রান।

ড্যান লরেন্স ও
বেন ফোকস প্রতিরোধ গড়েন কিছুক্ষণ। কিন্তু থিতু হয়ে স্লিপে অজিঙ্কা রাহানের দারুণ
ক্যাচে ফেরেন ইংলিশ কিপার ব্যাটসম্যান।

লরেন্সকে
খানিকক্ষণ সঙ্গ দেন লিচ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৯৩ বলে ফিফটি করেন লরেন্স। এরপর আর
এগোতে পারেননি। অশ্বিনের বলে তিনি বোল্ড হলে শেষ হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস।

ওয়ানডে ঘরানার
ব্যাটিংয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে পথ দেখানো পান্ত জিতেছেন ম্যাচ সেরার
পুরস্কার। সর্বোচ্চ ৩২ উইকেট ও এক সেঞ্চুরিতে ১৮৯ রান করা অশ্বিন জিতেছেন সিরিজ
সেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত
স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম
ইনিংস:
২০৫

ভারত ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২৯৪/৭) ১১৪.৪ ওভারে ৩৬৫ (সুন্দর ৯৬*, আকসার ৪৩, ইশান্ত ০, সিরাজ ০; অ্যান্ডারসন ২৫-১৪-৪৪-৩, স্টোকস
২৭.৪-৬-৮৯-৪, লিচ ২৭-৫-৮৯-২, বেস ১৭-১-৭১-০, রুট ১৮-১-৫৬-০)।

ইংল্যান্ড ২য়
ইনিংস:
৫৪.৫ ওভারে
১৩৫ (ক্রলি ৫, সিবলি ৩, বেয়ারস্টো ০, রুট ৩০, স্টোকস ২, পোপ ১৫, লরেন্স ৫০, ফোকস ১৩, বেস ২, লিচ ২, অ্যান্ডাসন ১; সিরাজ ৪-০-১২-০, আকসার ২৪-৬-৪৮-৫, অশ্বিন ২২.৫-৪-৪৭-৫, সুন্দর
৪-০-১৬-০)।

ফল: ভারত ইনিংস ও ২৫ রানে জয়ী।

সিরিজ: ৪ টেস্টের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়ী ভারত।

ম্যান অব দা
ম্যাচ:
রিশাভ পান্ত।

ম্যান অব দা
সিরিজ:
রবিচন্দ্রন
অশ্বিন।