ক্যাটাগরি

গুলি না চালাতে হাঁটু গেড়ে মিনতি সন্ন্যাসিনীর, তবু মন গলেনি

গত মাসে সেদেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বিক্ষোভ দমাতে কঠোর
অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাদখলকারী জান্তা। এর মধ্যেই উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিতকিনায় গত সোমবার
ওই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সেখানে দেখা যায়, সন্ন্যাসিনীর সাদা পোশাকে
সিস্টার অ্যান রোজ নু তং দুজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের সামনে হাঁটু গেড়ে মিনতি করছেন,
তারা যাতে বিক্ষোভকারীদের গুলি না করেন।

কিন্তু বৃথা গেছে সেই আর্তি। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি
ছোড়ে পুলিশ। মাথায় গুলি লেগে লুটিয়ে পড়ে এক কিশোর বিক্ষোভকারী।

সিস্টার তং টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, “আমি আকুতি জানিয়েছিলাম,
তারা যেন বিক্ষোভকারীদের আঘাত না করে, পরিবারের সদস্যের মত ভেবে যেন দয়া করে।

“আমি বলেছিলাম, প্রয়োজনে আমাকে মারো, বিক্ষোভকারীদের প্রতি এই
নিষ্ঠুরতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি যতক্ষণ তারা না দিচ্ছে, ততক্ষণ আমি উঠে দাঁড়াব না।”

মিতকিনা শহরে একটি ক্লিনিক পরিচালনা করে তং। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে
উপস্থিত পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন; বলেছিলেন, তারা শুধু রাস্তাটি
খালি করবেন। কিন্তু পুলিশ কথা রাখেনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, তং এবং উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের একজন মুখোমুখি
মাটিতে কপাল ছুঁইয়েছেন, কিন্তু অল্প সময় পরেই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো
হয়।

তং বলেন, “প্রচণ্ড গুলির শব্দ শুনলাম, তারপর দেখলাম একটা বাচ্চা
ছেলের মাথা উড়ে গেছে, রাস্তা রক্তে ভেসে যাচ্ছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন সেখানে পুলিশের গুলিতে অন্তত
দুজন বিক্ষোভকারী নিহত হন, আহত হন অনেকে।

রয়টার্স লিখেছে, এ ব্যাপারে মিতকিনার সামরিক মুখপাত্র এবং পুলিশের
সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেদিন পুলিশের কাঁদুনে গ্যাসে কাবু হওয়ার আগ পর্যন্ত কয়েকজন
আহতকে ক্লিনিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সিস্টার তং।

তিনি বলেন, ‘ক্লিনিকের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। আমি খুবই কষ্ট
পেয়েছি, মানুষের জীবন এত সস্তা হতে পারে না।”

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে গত মাসেও
বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছিলেন সিস্টার তং।

১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর শুরু
হওয়া বিক্ষোভ ও ধর্মঘট দমনে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কঠোর অবস্থানে এ পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর এসেছে।