ক্যাটাগরি

কিষান-কোহলির সামনে দাঁড়াতেই পারল না ইংল্যান্ড

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে
রোববার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে জিতেছে ভারত। ১৬৫ রানের লক্ষ্যে স্বাগতিকরা
পৌঁছে যায় ১৩ বল আগেই।

পাঁচ টি-টোয়েন্টির সিরিজটি এখন ১-১ সমতায়।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানের মতে,
প্রথম ম্যাচের তুলনায় কিছুটা মন্থর ছিল এবারের উইকেট। যেখানে রান তাড়ায় ব্যাট হাতে
৩২ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন কিষান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচেই ফিফটি
করা তরুণ এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সিরিজে পিছিয়ে থাকা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব
দেন কোহলি। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া ভারত অধিনায়ক এবার মাঠ ছাড়েন জয় সঙ্গে
করে। খেলেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস।

এই ইনিংসের পথে রেকর্ড গড়েন কোহলি। আন্তর্জাতিক
টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান এখন তিনি।

ইংল্যান্ডকে দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেওয়ার
পেছনে বড় অবদান জেসন রয়ের। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন বিধ্বংসী এই ওপেনার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে জস বাটলারকে তৃতীয়
বলেই হারায় সফরকারীরা। ভুবনেশ্বর কুমারের বল লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ব্যাটে-বলে করতে
না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

রয় ও দাভিদ মালানের ব্যাটে সে ধাক্কা
সামাল দেয় ইংলিশরা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আসে ৪৪ রান।

ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি
মালান। চারটি চারে ২৩ বলে ২৪ রান করে তিনি এলবিডব্লিউ হন যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে। আম্পায়ার
আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নিয়ে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ফেরায় ভারত। ভাঙে রয়ের সঙ্গে
তার ৬৩ রানের জুটি।

দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রয়।
কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এবারও তাকে ফিফটির আগে থামিয়ে দেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৫ বলে
দুই ছক্কা ও ৪ চারে ৪৬ করে ইংলিশ ওপেনার ধরা পড়েন বাউন্ডারিতে। পরে এই অফ স্পিনার দ্রুত
ফেরান জনি বেয়ারস্টোকে।

শার্দুল ঠাকুরকে জোড়া চার, চেহেল-সুন্দরকে
বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের চাকা ভালোই সচল রেখেছিলেন মর্গ্যান। তবে বেশিক্ষণ টেকেননি,
শার্দুলের স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে ধরা পড়েন কিপারের হাতে। ৪ চারে করেন ২০ বলে ২৮ রান।

ভারতীয় পেসারদের স্লোয়ারে ভোগা বেন স্টোকস
(২৪) শেষ ওভারে শার্দুলের স্লোয়ারেই লং অনে ক্যাচ দেন। ইংল্যান্ড শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট
হারিয়ে তুলতে পারে কেবল ৩৫ রান। 

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। স্যাম
কারানের করা প্রথম ওভারের শেষ বলে কট বিহাইন্ড হন গত ম্যাচেও ব্যর্থ লোকেশ রাহুল।

শূন্য রানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়বে কি,
পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অভিষিক্ত কিষান ও কোহলি। দুইজনে ৫৪ বলে গড়েন ৯৪ রানের জুটি।

মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই জফ্রা আর্চারকে
বাউন্ডারি মারেন কিষান। এরপর থেকে বল কেবলই বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন তিনি। টম কারানের
ওভারে মারেন এক ছয়, দুই চার। স্টোকসকে ওড়ান ছক্কায়। আদিল রশিদকে পরপর দুই বলে ছক্কা
হাঁকিয়ে ২৮ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।

ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই অবশ্য বিদায় নেন তিনি।
রশিদের ওই ওভারেই এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৬ করেন এই তরুণ। মাঝে
একবার জীবনও পেয়েছিলেন তিনি, ৪০ রানে তার সহজ ক্যাচ লং অনে ছাড়েন স্টোকস।

অসাধারণ ব্যাটিংয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে
দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান কোহলি। আর চার নম্বরে নেমেই আক্রমণ শুরু করেন রিশাভ পান্ত।
রশিদকে ছক্কায় ওড়ানোর পর স্যাম কারানকে মারেন চার। ক্রিস জর্ডানের পরপর দুই বলে চার-ছক্কা
হাঁকিয়ে ১২ বলে ২৬ করে ধরা পড়েন বাউন্ডারিতে।

মাঝে ৩৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করা কোহলি বাকি
কাজ সারেন শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে। ১৮তম ওভারে জর্ডানকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে
দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

আগামী মঙ্গলবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি
হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৪/৬ (রয় ৪৬, বাটলার ০, মালান ২৪, বেয়ারস্টো ২০,
মর্গ্যান ২৮, স্টোকস ২৪, স্যাম ৬*, জর্ডান ০*; ভুবনেশ্বর ৪-০-২৮-১, সুন্দর ৪-০-২৯-২,
শার্দুল ৪-০-২৯-২, পান্ডিয়া ৪-০-৩৩-০, চেহেল ৪-০-৩৪-১)।

ভারত: ১৭.৫ ওভারে ১৬৬/৩ (রাহুল ০, কিষান ৫৬, কোহলি ৭৩*, পান্ত
২৬, শ্রেয়াস ৮*; স্যাম ৪-১-২২-১, আর্চার ৪-০-২৪-০, জর্ডান ২.৫-০-৩৮-১, টম ২-০-২৬-০,
স্টোকস ১-০-১৭-০, রশিদ ৪-০-৩৮-১)।

ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায়।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশান কিষান।