মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত
তিব্বত মোড়ে শ্রমিকরা অবস্থান করায় ওই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হলে পুলিশ তাদেরকে সরানোর
চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন
অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্টিচওয়েল ও অ্যাপারেল স্টিচ নামের দুটি
কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানা বন্ধ পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
বেতনভাতা পরিশোধ না করে পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রাস্তা শ্রমিকরা অবরোধের সময় পুলিশের সাথে বিবাদে জড়ায় শ্রমিকেরা।
“শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করে ফেলায় যানজটসহ
অনেক সমস্যা হচ্ছিল। সরে যেতে বললেও তারা রাস্তা থেকে নড়ছিল না। তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল
নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনা হয়।”
এই ঘটনায় অন্তত ১০জন আহত হয়েছে জানিয়ে
তিনি বলেন, তাদের মধ্যে অলিউর রহমান (২৪) নামের একজন পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন।
আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বেতনভাতা পরিশোধ না করে পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের হাজারখানেক শ্রমিক।
বিক্ষেুব্ধ শ্রমিকরা বলছেন, তাদের পাওনাসহ
প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বুঝিয়ে না দিয়েই মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।
হাসান মুন্সি নামের এক শ্রমিক বলেন, তাদের
না জানিয়ে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের বেতনসহ সব পাওনা বকেয়া রয়েছে।
তবে দু’টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল হোসেন
দাবি করেছেন শ্রমিকদের কোনো বেতন বকেয়া নেই।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন,
“শ্রমিকদের বেতন বকেয়া নেই। সবকিছু আপডেট আছে। তবে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তাদের
যে সুযোগ-সুবিধা পাওনা রয়েছে, শিগগিরই সেসব পরিশোধ করা হবে।”
বেতনভাতা পরিশোধ না করে পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রাস্তা শ্রমিকেরা অবরোধের পর পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটে আহত হন এক পুলিশ সদস্য।
কারখানা বন্ধের কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,
বাধ্য হয়েই তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন।
“পাশে একটি আলকাতরা কারখানা আছে। এর দুর্গন্ধের
কারণে বায়াররা আসেননা, আমাদের কাজ করাও সমস্যা হয়। এছাড়া এক বায়ার আমাদের ৩০ লাখ ডলার
আত্মসাৎ করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের পক্ষে কারখানা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না,” বলেন ইকবাল
হোসেন।