ক্যাটাগরি

জান্তার প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান মিয়ানমারের বৌদ্ধ গোষ্ঠীর

এক খসড়া বিবৃতিতে ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরপরাধ বেসামরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের জন্য সমিতি ‘সশস্ত্র সংখ্যালঘুদের’ দায়ী করেছে বলে বুধবার দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সরকারি সংস্থা সংঘ মহা নায়েকা কমিটি (মহানা) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার পর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিবৃতি দেবে বলে কমিটির বৈঠকে থাকা একজন ভিক্ষুর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা মিয়ানমার নাও জানিয়েছে।

মিয়ানমারে ভিক্ষুদের আন্দোলন করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ২০০৭ সালে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে ‘গেরুয়া বিপ্লবে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাদের। ‘গেরুয়া বিপ্লব’ মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সংস্কারের গতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু গত মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে ওই ধারা থমকে গেছে।

মন্তব্যের জন্য মহানা সদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স, কিন্তু প্রকাশিত খবর অনুযায়ী তাদের এ অবস্থান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য বার্তা সংস্থাটির। মহানা সাধারণত সরকার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী হিসেবেই কাজ করে থাকে। 

সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্ষমতা দখলকারী সামরিক বাহিনী সু চি ও তার দলের অধিকাংশ নেতাকে কারাবন্দি করে রেখেছে।

সু চিসহ নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে মিয়ানমারজুড়ে প্রায় প্রতিদিন জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। শক্তি ‍প্রয়োগে বিক্ষোভের ঢেউ থামাতে চাইছে সামরিক জান্তা। এতে এ পর্যন্ত ১৮০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে নিহতের এক ভাই রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী যখন প্রধান শহর ইয়াংগনে বিক্ষোভ বন্ধ করার বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে তখন অন্যান্য এলাকায় জান্তাবিরোধী ছোট ছোট প্রতিবাদ হচ্ছে।

বুধবার দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেমোসোয়, ইরাবতী নদীর বদ্বীপের শহর পাথেইনে ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাউইতে কয়েকশত প্রতিবাদকারী ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদ করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ছবিতে এমনটি দেখা গেছে।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোনিওয়াতেও প্রতিবাদ হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইয়াঙ্গনের একটি এলাকায় প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় সারি সারি নারিকেল বিছিয়ে রেখেছে, এগুলো বিক্ষুব্ধ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেখানে একটি ব্যানারে ‘আমাদের ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দাও!’ লেখা রয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মিয়ানমারের খুব অল্প সংখ্যক লোকের ওয়াই-ফাই সংযোগ আছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

মন্তব্যের জন্য জান্তার এক মুখপাত্রের কাছে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।