ক্যাটাগরি

জোড়া উদযাপন ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

বুধবার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পর্যন্ত দশ দিনের এই আয়োজনে পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেবেন।

এই সময়ে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২৬ মার্চ ঢাকায় এসে সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জের দুটি মন্দিরেও তিনি যাবেন। ওই সময় ঢাকার পাশাপাশি গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাতেও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উদযাপনের এই আয়োজনের সকল ভেন্যু থাকবে নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা।

এই কয়দিন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের না হতে এবং সড়কে চলাচল সীমিত রাখতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সেই সঙ্গে সভা সমাবেশ, মিছিল বা অন্য কোনো কর্মসূচি না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

এছাড়া যে কোনো জঙ্গি তৎপরতা অথবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।

১৭ থেকে ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের কেন্দ্রীয় আয়োজনে পাঁচ দিন যোগ দেবেন পাঁচজন রাষ্ট্রনেতা। ১৭ মার্চ সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। এরপর ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ২৪ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এবং ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যোগ দেবেন।

বিদেশি অতিথিদের বাংলাদেশে আসা, তাদের অবস্থান এবং চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ সদরদপ্তর।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি  (মিডিয়া) সোহেল রানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ আয়োজনে নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ইউনিফর্ম ও সাধারণ পোশাকে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।”

রাজধানীর যে দুটি হোটেলে অতিথিরা অবস্থান করবেন, সেসব হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে রাখা হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এই সময়ে হোটেলে আসা অন্য অতিথিদের বিষয়েও কড়া নজরদারি থাকবে।”

রাষ্ট্রীয় অতিথিদের একস্থান থেকে অন্যস্থানে চলাচলের সময় কেউ যেন কোনো ধরনের পোস্টার, পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট বা অন্য কোনো বস্তু প্রদর্শন করতে না পারে, সে ব্যাপারেও কড়া নির্দেশ রয়েছে বলে জানান পুলিশের সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

নিরাপত্তা প্রস্তুতি জানিয়ে মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, “বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পুলিশ বরদাশত করবে না। তারা আমাদের সম্মানিত অতিথি। এত গুরুত্বপূর্ণ মেহমান একসাথে ঢাকায় আসতে আমরা দেখিনি। দেশ ও জাতির জন্য তাদের এ সফর অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের।”

পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, কোনো ধরণের ঝুঁকি বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য তারা পাননি। তারপরও সব দিন মাথায় রেখে নিরপত্তার আয়োজন সাজানো হয়েছে।

র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, উদযাপনের এই দশ দিন তিন স্তরের (জল, স্থল ও আকাশ) বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে র‌্যাব।

“সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সদর দপ্তর থেকে মনিটরিং করা হবে। অনুষ্ঠানে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাঘাত ঘটালে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”