ক্যাটাগরি

নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে করা ‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ থেকে বেরিয়ে গেল তুরস্ক

‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ নামে পরিচিত দ্য কাউন্সিল অব ইউরোপ অ্যাকর্ডে তুরস্ক ২০১১ সালেই স্বাক্ষর করেছিল। ২০১৪ সালের অগাস্ট থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়।

কী কারণ দেখিয়ে আঙ্কারা চুক্তিটি থেকে বেরিয়ে এসেছে শনিবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি গেজেটে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এরদোয়ানের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওইদিন তুরস্কজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর ওপর সহিংসতা ব্যাপক বেড়েছে।

“নারী হওয়ার কারণে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, প্রতিদিন এমন খবরেই ঘুম ভাঙে আমাদের। ওই মৃত্যু কখনোই বন্ধ হবে না। আর পুরুষদের কিছুই হবে না,” বলেছেন শিক্ষার্থী হাতিস ইয়োলসু।

তার মতো কয়েকশ নারী শনিবার ইস্তাম্বুলে এরদোয়ানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেগুনি পতাকা নিয়ে মিছিল করেছেন।

৪৭ দেশের কাউন্সিল অব ইউরোপের মহাসচিব মারিয়া পেচিনোভিস ‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ থেকে তুরস্কের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

এরদোয়ানের একেপি পার্টি আর তুরস্কের রক্ষণশীলদের ভাষ্য, এই চুক্তি পারিবারিক কাঠামোর ক্ষতিসাধন করে সহিংসতাকে উসকে দেয়।

এ সমালোচকদের অনেকে চুক্তিতে নারী-পুরুষ সমতার যে নীতির কথা বলা হয়েছে তার বিরুদ্ধেও সোচ্চার।  চুক্তিতে যৌন দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে বৈষম্য না করার যে কথা বলো আছে তা সমকামিতাকে উৎসাহিত করে বলেও মনে করেন তারা। 

“আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী সামাজিক কাঠামোর সংরক্ষণই তুর্কি নারীর মর্যাদা রক্ষা করবে। এজন্য বাইরের টোটকা বা অন্যদের নকল করার কোনো দরকারই নেই,” টুইটারে এমনটাই বলেছেন তুর্কি ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ ওকতায়।

দেশটির পরিবার, শ্রম ও সামাজিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রী জেহরা জুমরাত বলেছেন, তুরস্কের সংবিধান আর এখনকার আইনই নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

সমালোচকরা বলছেন, ‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ থেকে বেরিয়ে গিয়ে তুরস্ক ইউরোপ থেকে আরও দূরে সরে গেল। দেশটি এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢোকার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জার্মানি বলেছে, তুরস্কের দ্য কাউন্সিল অব ইউরোপ অ্যাকর্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ‘ভুল সংকেত’ দেবে।

“নারীর প্রতি সহিংসতাকে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় কিংবা অন্য কোনো ঐতিহ্যকে কারণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়,” বলেছে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।