শেফিল্ড শিল্ডের সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে রোববার হোবার্টে এই ভয়ঙ্কর ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় নিউ সাউথ ওয়েলস। প্রথম ইনিংসে তাসমানিয়ার ৩৩৩ রানের জবাবে তারা ১৯.৩ ওভারে করতে পারে ৩২ রান।
নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন কেবল অধিনায়ক পিটার নেভিল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৭ টেস্ট খেলা কিপার-ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। মিচেল স্টার্ক ফেরেন ২ রানে, ন্যাথান লায়ন শূন্য।
শূন্য রানে তারা হারায় প্রথম ৩ উইকেট, ১ রানে শেষ ৩ টি। শন অ্যাবট ব্যাট করতে পারেননি চোট পাওয়ায়।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ইনিংস ধসিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক জ্যাকসন বার্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯ টেস্ট খেলা পেসার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে নেন ১৮ রানে ৭ উইকেট। পিটার সিডল ও স্যাম রেইনবার্ড নেন ১টি করে উইকেট।
বোলিংয়ের আগে ব্যাট হাতেও নিউ সাউথ ওয়েলসকে বেশ ভোগান বার্ড। ৯ নম্বরে নেমে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৫৪ রানের ইনিংস।
শেফিল্ড শিল্ডের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় রান। এটির নিচে থাকা তিনটি ইনিংস সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ২৭ ও ২৯, ভিক্টোরিয়ার ৩১। তিনটিই নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে। এবার তারাই পেল এমন তিক্ত স্বাদ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এই মাসেই এরকম ভয়াবহ ব্যাটিং ধস দেখল দুই দফায়। গত ৫ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৬ রানে অল আউট হয় বোর্ডার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বনিম্ন দলীয় ইনিংসের রেকর্ডটি অবশ্য ভাঙা খুব কঠিন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ৬ রানে অল আউট হওয়ার নজিরও আছে!
১৮১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ‘দা বি’স’ একাদশ। সেই ৬ রানের ৪ রানই এসেছিল একজনের ব্যাট থেকে। ১ রান করে করতে পেরেছিলেন দুজন।
এই দলটি গঠিত হতো মূলত ‘বি’ অদ্যাক্ষরের ক্রিকেটারদের নিয়ে। তবে অন্য অক্ষর দিয়ে শুরু নামের ক্রিকেটাররাও খেলেছেন নানা সময়ে। ১৮০৫ থেকে ১৮৩২ পর্যন্ত নানা সময়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে তারা। পরে আর তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকেনি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই রেকর্ড টিকিয়ে রেখেছে তাদের স্মৃতি।