ভারতের রায়পুরে
সাবেকদের এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে রোববার শ্রীলঙ্কা লেজেন্ডসের বিপক্ষে ১৪ রানে
জিতেছে ভারত লেজেন্ডস।
ইউসুফ ও যুবরাজ
সিংয়ের ৮৫ রানের জুটিই মূলত ভারতকে এনে দেয় ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের বড় পুঁজি।
ইউসুফ খেলেন ৩৬ বলে ৬২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। যুবরাজের ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৬০
রান।
পরে বল হাতে
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিলকরত্নে দিলশানকে দ্রুত ফেরানোর পর সানাৎ
জয়াসুরিয়ার ৪৩ রানের লড়াই থামান ইউসুফ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা তিনিই।
ম্যাচে খানিক
রোমাঞ্চ ছড়ায় পঞ্চম উইকেটে চিন্থাকা জায়াসিংহে ও কৌশল্য বিরারত্নের ৬৪ রানের জুটি।
তবে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১৬৭ রান।
টস হেরে
ব্যাটিংয়ে নামা ভারত তৃতীয় ওভারেই হারায় বিরেন্দর শেবাগকে। এস বদ্রিনাথকে
এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দ্রুত বিদায় করেন জয়াসুরিয়া। অন্য প্রান্তে শচিন
টেন্ডুলকার ছিলেন অবিচল। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান তোলে ভারত।
অধিনায়ককে সঙ্গ
দেন যুবরাজ। তাদের জুটিতে ভালোই রান বাড়াচ্ছিল ভারত। ফারভিজ মাহারুফের বলে
টেন্ডুলকার কট বিহাইন্ড হলে ভাঙে ৪৩ রানের জুটি। ২৩ বলে ৪ চারে ৩০ রান করেন এই
ব্যাটিং কিংবদন্তি।
ইউসুফ ব্যাটিংয়ে
নামার পর ভারতের রান আসতে থাকে বানের পানির মতো। বিরারত্নেকে ছক্কায় ওড়ান যুবরাজ, পরে ওই ওভারে
আরেকটি ছক্কা মারেন ইউসুফ।
প্রসাদের ওভারে
চার মেরে ৩৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন যুবরাজ। পরে স্ট্রাইকে গিয়ে লঙ্কান এই পেসারকে
টানা তিন বলে দুই ছক্কা ও এক চার হাঁকান ইউসুফ। দুই জনে মিলে নুয়ান কুলাসেকারাকে
ওড়ান তিন ছক্কায়। ইউসুফ ২৪ বলে তুলে নেন ফিফটি।
৪১ বলে চারটি
করে চার-ছক্কায় ৬০ রান করা যুবরাজকে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভাঙেন বিরারত্নে। শেষ
ওভারে ইরফান পাঠানের ছক্কায় ভারতের সংগ্রহ পেরিয়ে যায় ১৮০। ৩৬ বলে ৫ ছক্কা ও ৪
চারে ৬২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ইউসুফ।
রান তাড়ায়
শ্রীলঙ্কাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন জয়াসুরিয়া ও দিলশান। মুনাফ প্যাটেলের দুই ওভারে ২৯
রান, বিনয় কুমারের
ওভারে ১০ রানের সৌজন্যে পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৮ রান তোলেন তারা।
ভারতকে প্রথম
সাফল্য এনে দেন ইউসুফ। এই অফ স্পিনারের লাফিয়ে ওঠা বলে কিপারের হাতে ক্যাচ দেন ২১
রান করা দিলশান। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই চামারা সিলভাকে ফিরিয়ে দেন ইরফান।
৩৫ বলে ৪৩ রান
করা জয়াসুরিয়াকে থামান ইউসুফ। উপুল থারাঙ্গাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন ইরফান। ম্যাচ তখন
অনেকটাই হেলে পড়ে ভারতের দিকে। জয়াসিংহে ও বিরারত্নে আক্রমণ শুরু করলে মেলে কিছুটা
নাটকের আভাস।
বিনয়ের করা ১৮তম
ওভারে বিরারত্নের দুই ছক্কা ও এক চারে ১৯ রান এলে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৫
বলে তিনটি করে চার-ছক্কায় ৩৮ রান করা বিরারত্নে পরের ওভারে বিদায় নিলে আর পেরে
উঠেনি শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত
স্কোর:
ভারত লেজেন্ডস: ২০ ওভারে ১৮১/৪ (শেবাগ ১০, টেন্ডুলকার ৩০, বদ্রিনাথ ৭, যুবরাজ ৬০, ইউসুফ ৬২*, ইরফান ৮*; হেরাথ ২-০-১১-১, কুলাসেকারা
৪-০-৪৪-০, দিলশান ২-০-২৫-০, জয়াসুরিয়া
২-০-১৭-১, প্রসাদ ৪-০-৪২-০, মাহারুফ
৪-০-১৬-১, বিরারত্নে
২-০-২৩-১)।
শ্রীলঙ্কা
লেজেন্ডস: (লক্ষ্য ১৮২)
২০ ওভারে ১৬৭/৭ (দিলশান ২১, জয়াসুরিয়া ৪৩, সিলভা ২, থারাঙ্গা ১৩, জায়াসিংহে ৪০, বিরারত্নে ৩৮, কুলাসেকারা ১*, মাহারুফ ০; গনি ৪-০-২৪-১, মুনাফ ৪-০-৪৬-১, প্রজ্ঞান ওঝা
২-০-১২-০, বিনয় ২-০-২৯-০, ইউসুফ ৪-০-২৬-২, ইরফান
৪-০-২৯-২)।
ফল: ভারত লেজেন্ডস ১৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা
ম্যাচ: ইউসুফ পাঠান।
ম্যান অব দা
টুর্নামেন্ট: তিলকারত্নে
দিলশান