শনিবার মোদীর টুঙ্গিপাড়ায় এসে জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। পরে সেখান থেকে
তিনি ওড়াকান্দিতে মতুয়াবাদের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের হরিমন্দিরে পূঁজা দেবেন। এছাড়া
ওড়াকান্দিতে ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও মতুয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার মতবিনিময় করার কর্মসূচি
রয়েছে।
দুই দিনের সফরে শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের
সকালে ঢাকায় পৌঁছান নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাঙালির স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে
তিনি কিছু সময় নীরবতা পালন করেন।
মোদীর সফর ঘিরে টুঙ্গিপাড়া ও ওড়াকান্দিকে
নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা
বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর সফল করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জোরদার করা হয়েছে। ওড়াকান্দিতে আমরা একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছি। সেখান থেকে
সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা ওড়াকান্দি পর্যবেক্ষণ ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
করা হচ্ছে।”
মোদীর আগমনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে
এলজিইডি।
গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী
মো. এহসানুল হক জানান, ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জরুরি
ভিত্তিতে চারটি হেলিপ্যাড, ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক, ঢাকা-খুলনা
মহাসড়কের তিলছড়া থেকে ওড়াকান্দি পর্যন্ত আট কিলোমিটার ও রাহুথড় সড়ক থেকে ওড়াকান্দি
প্রবেশের জন্য ৬০০ মিটার পাকা সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য
প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্তসহ বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তাছাড়া পরিষ্কার-পরিছন্নতা, ভিআইপি লাউঞ্জ
নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ওড়াকান্দির সব মন্দির, গেস্ট হাউসের সৌন্দর্য বর্ধণ করা
হয়েছে। ওড়াকান্দিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে
দেওয়া হয়েছে। মোদির সফর ঘিরে মতুয়াদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
গোপালগঞ্জের ডিসি শাহিদা সুলতানা বলেন,
শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার
কথা রয়েছে। সেখানে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পালা শেষে বঙ্গবন্ধু
সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে একটি গাছের চারা রোপণ করবেন তিনি। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি কাশিয়ানী
উপজেলার মতুয়াদের প্রধান তীর্থপীঠ ওড়াকান্দিতে যাবেন। সেখানে তিনি হরিচাঁদ মন্দিরে
পূজা দেবেন। পরে তিনি মতুয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
ডিসি বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে। আর ওড়াকান্দিতে তাকে স্বাগত জানাবেন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোপালগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি ও
মতুয়ামাতা সীমা দেবী ঠাকুর বলেন, “আমরা জেনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে
নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আসছেন। তার ওড়াকান্দি হরিমন্দিরে পূজা দিতে আসার কথা রয়েছে।
তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওড়াকান্দিতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এছাড়া ভারতের
প্রধানমন্ত্রী ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে
বরণ করতে ওড়াকান্দি প্রস্তুত রয়েছে।”
মতুয়াভক্ত টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দাড়িয়ারকূল
গ্রামের প্রবীর বিশ্বাস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হরিচাঁদ অবতাররূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাভূমি ওড়াকান্দি অবহেলিত ও দলিত মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থ। প্রতিবছর
১০ লাখ মতুয়াভক্ত পুণ্যলাভের আশায় বরুণীর দিনে এ তীর্থে এসে স্নান করেন। এখানে ভারতের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসবেন—এতে আমরা গর্বিত। আমার তাকে হৃদয়ের অর্ঘ্য দিয়ে
অভিনন্দন জানাব। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য আমরা অপেক্ষার প্রহর গুনছি।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিসি শাহিদা সুলতানা।