পরে তাকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে তুলে
দেওয়া হবে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল
হক জানিয়েছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “শিশুটি
ভাল আছে, কোনো সমস্যা নেই। তবে আরো কিছুদিন তাকে হাসপাতালে রাখতে হবে।
“শিশুটি এখন পুলিশ পাহারায় আছে। হাসপাতালে
সপ্তাহখানেক থাকার পর তারা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
গত শুক্রবার সকালে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানবন্দর এপিবিএন শিশুটিকে উদ্ধার করে বিমানবন্দর
থানার কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিমানবন্দর থানার এসআই শ্রীধম চন্দ্র রায়
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসে কিছু সমস্যা ছিল বলে
মনে হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সে এখন ভাল আছে।
“সেখানে একজন নারী পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক
দেখভাল করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিলে পরে তাকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে
হস্তান্তর করা হবে।”
সৌদিফেরত এক নারীর সাথে আসা এই শিশুটিকে
উদ্ধার করা হলেও সেই নারীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান শ্রীধম চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে সিসিটিভি ফুটেজ
ও ওই নারীর পাসপোর্ট পেলে তারা অনুসন্ধান করে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করবেন।
তবে বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই নারীর সব তথ্য পেয়েছেন। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে
হস্তান্তর বা পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এবিষয়ে এসআই শ্রীধম চন্দ্র বলেন, “ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিমানবন্দরের
ভেতরে বেল্ট এলাকায় শিশুটিকে কাঁদতে দেখে এপিবিএন সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে। পরে
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুটিকে নিয়ে এক নারী যাত্রী রাত ২টায় সৌদি আরব থেকে
বাংলাদেশে আসেন। পরে সকালে মালামাল নিয়ে চলে গেলেও শিশুটিকে ফেলে যান, যা পরে
সিসিটিভি ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ওই নারীর এক সহযাত্রী আসমা বেগমকে উদ্ধৃত
করে পুলিশ বলছে, সৌদি আরবে যাওয়ার পর এক বাঙালির সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের ঘরে
এই শিশুর জন্ম। পরে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।