ক্যাটাগরি

পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত, মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ

মিনিয়াপোলিসের শহরতলী ব্রুকলিন সেন্টারে ২০ বছর বয়সী ডন্টি রাইটকে ট্র্যাফিক স্টপে পুলিশ গুলি করে মারলে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে জনতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইটের মা কেটি রাইট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রোববার বিকালে ছেলে ফোন করে তাকে বলেন গাড়ির রিয়ার-ভিউ মিররে এয়ার ফ্রেশনার ঝুলিয়ে রাখায় (মিনেসোটায় এটি অবৈধ) পুলিশ তাকে আটক করেছে। তিনি জানান, পুলিশ তার ছেলেকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলছে এমনটি শুনতে পান তিনি।

“আমি ধস্তাধস্তির শব্দ পাই, শুনতে পাই পুলিশ বলছে, ‘ডন্টি, দৌঁড় দিওনা,” বলে কাঁদতে থাকেন তিনি। তখন কলটি কেটে যায়। এরপর তিনি আবার কল দিলে রাইটের মেয়ে বন্ধু ফোন ধরে জানায়, সে চালকের আসনে মরে পড়ে আছে।

এক বিবৃতিতে ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর ট্র্যাফিক আইন ভাঙার জন্য পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল, পরে দেখতে পায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে সে গাড়িতে ফিরে যায়। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করে। বিবৃতিতে রাইটকে শনাক্ত না করে বলা হয়, গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে অন্য কয়েকটি গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে কয়েক ব্লক দূরে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পুরো ঘটনা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বডি ক্যামেরায় রেকর্ডিং হয়ে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   

রোববার রাতে রাইটের মৃত্যুর বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে দিতে কয়েকশ বিক্ষোভকারী সেন্ট্রাল মিনিয়াপোলিস থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশ সদর দফতরের বাইরে সমবেত হয়।

সেখানে বিক্ষোভকারীরা ফুটপাতে চক দিয়ে স্লোগান লিখে এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, আবর্জনা ভরা ব্যাগ ও পানির বোতল ছুড়ে মারে।

বিক্ষোভ থেকে ধারণকৃত বিভিন্ন ফুটেজে এ সময় পুলিশকে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছুড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। 

পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। ব্রুকলিন সেন্টারের মেয়র মাইক এলিয়ট শহরব্যাপী কারফিউ জারি করে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে এক টুইটে বলেন, “সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। নিরাপদে থাকুন, বাড়িতে চলে যান।”

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সোমবারে ব্রুকলিন সেন্টারের স্কুলসহ সব অনুষ্ঠান ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সম্প্রতি জর্জ ফ্লয়েড হত্যার শুরু হওয়ায় মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তিনি ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, এবং সাথে ডন্টি রাইটের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছেন।