প্রবল শঙ্কা আছে প্রাণভোমরা মেসির দলছুট
হওয়ার। এবারের কোপা দেল রের ফাইনাল তাই বার্সেলোনার জন্য অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে
নেওয়ার উপলক্ষ। সঙ্গে হতে পারে আগামীর পথ চলার পাথেয়।
স্প্যানিশ কাপ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতাটির
ফাইনালে আগামী শনিবার আথলেতিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। রোনাল্ড কুমানের
দলের জন্য ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসার সুযোগ এই ম্যাচ।
পালাবদলের মৌসুমে এক এক করে স্বপ্ন
ভাঙছে বার্সেলোনার। পিএসজির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বেজেছে বিদায়ঘণ্টা।
গত জানুয়ারিতে হেরেছিল বিলবাওয়ের কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে।
সবশেষ ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে
২-১ গোলের হেরে লা লিগার শিরোপাভাগ্যও নিজেদের হাত থেকে ফেলে দিয়েছে কুমানের দল। ৩০
ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে
রিয়াল। ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বার্সেলোনা। লিগের এখনও আট রাউন্ড বাকি; সে হিসেবে লিগের
মুকুট পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা টিকে আছে ভালোভাবেই। আবার তা মিইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে
একই সমান্তরালে।
গত বছর অগাস্টে হুট করে চুক্তির একটি
ধারা কার্যকর করে বার্সেলোনাকে বিদায় বলতে চেয়েছিলেন মেসি। চুক্তির মারপ্যাচে আর্জেন্টাইন
তারকাকে ছাড়তে রাজি হয়নি কাতালুনিয়ার দলটি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার
কথা বলে কাম্প নউয়ে থেকে গেছেন মেসি। তবে সিদ্ধান্তটা যে অনেকটা বাধ্য হয়েই, সেটা বলার
অপেক্ষা রাখে না। তাই শঙ্কার মেঘটা পুরোপুরি সরেনি এখনও।
বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কুমানের সামনেও দীর্ঘ দিনের শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ। ফাইল ছবি
কোপা দেল রের ফাইনালের দিকে তাই দল,
সমর্থক এমনকি সমালোচকরাও তাকিয়ে আছেন অধীর আগ্রহে। বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়াতে, মেসির
সঙ্গে এতদিনের বন্ধন অটুট রাখতে জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা অনেকের। বার্সেলোনা
জিতলে, মেসিকে শিরোপার স্বাদ ফিরিয়ে দিতে পারলে তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কাম্প নউয়ে রেখে
দেওয়া যাবে বলে বিশ্বাস তাদের।
লিগে প্রথম ১০ রাউন্ডে জুটেছিল মাত্র
চারটি জয়। লিগ শিরোপার আশা ডিসেম্বরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন কোচ কুমান। সেখান থেকে অসাধারণভাবে
ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা ১৯ ম্যাচে অপরাজিত ছিল বার্সেলোনা; ১৬ জয় ও তিন ড্র। চার মাসের ব্যবধানে
পাল্টে যাওয়া অবস্থানে দাঁড়িয়ে লা লিগার মুকুট পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
তবে ছোট্ট কোনো হোঁচটেও ভেঙে যেতে
পারে সেই স্বপ্ন। কুমানের জন্যও একটা শিরোপা খুব দরকার। কোচ হিসেবে এই ডাচের সবশেষ
সাফল্যেও যে ধুলো জমে গেছে। ২০০৯ সালে এজে আলকামারের হয়ে ইয়োহান ক্রুইফ শিল্ড জয়ের
পর থেকে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘোরপাক খাচ্ছেন তিনিও। মাঝে অনেকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও খুব
কাছ থেকে ফিরেছেন হতাশা নিয়ে।
বড় দলগুলোকে হরহামেশা নাকানিচুবানি
খাওয়ানোর বেশ সুনাম আছে বিলবাওয়ের। দলটির কোচ মার্সেলিনো গার্সিয়াও দারুণ কৌশলী। ২০১৯
সালে ভালেন্সিয়ার কোচ হিসেবে কোপা দেল রের ফাইনালে বার্সেলোনাকে ডুবিয়েছিলেন তিনি।
আর গত জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে তার বর্তমান দলের সাফল্যের
স্মৃতি তো বেশ টাটকা।
কোপা দেল রের শিরোপার চাওয়াটা বিলবাওয়েরও
কম নয়। মেসিরা সবশেষ এ শিরোপা জিতেছিলেন ২০১৭-১৮ মৌসুমে। বিলবাও ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে। তিন
যুগেরও বেশি সময়ের খরা কাটাতে উদগ্রীব থাকবে গার্সিয়ার দল।
লড়াইয়ের মঞ্চ সেভিয়ার লা কার্তুসা স্টেডিয়ামও
বিলবাওয়ের জন্য অনুপ্রেরণার। জানুয়ারিতে এই আঙিনায় বার্সেলোনাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সুপার
কাপ জয়ের উৎসব সেরেছিল তারা। তিন মাসের ব্যবধানে কুমানের দলের সামনে সুযোগ মধুর প্রতিশোধ
নেওয়ার।
কোপা দেল রের ইতিহাসে সফলতম দল বার্সেলোনা।
এ পর্যন্ত ৩০ বার এই প্রতিযোগিতায় জিতেছে তারা। সব মিলিয়ে আসছে শিরোপা লড়াইয়ে তারাই
ফেভারিট।
কিন্তু মাঝের শিরোপ খরা আর মেসিকে
নিয়ে নানা গুঞ্জন। তাই নানা সমীকরণ আর পরিস্থিতির বিবেচনায় এবারের কোপা দেল রের ফাইনাল
বার্সেলোনাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মহাকঠিন এক প্রশ্নের সামনে। এখান থেকে তারা নতুন শুরু
করবে নাকি ছুটতে থাকবে উল্টোরথেই?