চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।
ফরিদপুর সদর হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীর সিট রয়েছে ১০টি। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, দ্বিগুনেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। সেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
একই অবস্থা দেখা গেছে, শহরের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে।
বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র ড. জাহেদ মেনোরিয়াল শিশু হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক শিশু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়া ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে আরও প্রায় দুইশ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান বলেছেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এর প্রভাব পড়ছে। তুলনামূলক আগের চেয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কোথাও কোথাও সেবা দিতে কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সব কিছু।”
ডায়রিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচতে শিশুদের বাসি-পঁচা খাবার দূরে রাখার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান এবং সবসময় পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এ চিকিৎসক।
ফরিদপুর সদর হাসপাতলের সিনয়ার সেবিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের সিমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া চেষ্টা করছি। তবে প্রতিদিনই শিশু রোগী আসছে। শিশুদের পাতলা পায়খানা ও বমি হচ্ছে।”
এ হাসপাতালে কথা হয় মাদারীপুর জেলার দিনমজুর আক্তার শেখের সঙ্গে। তিনি জানান, তার দুই শিশুর গত এক সপ্তাহ ধরে বমি ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে। তাই মাদারীপুর হাসপাতাল সেখান থেকে শিশু দুইটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আক্তার বলেন, “উপায়ন্ত না পেয়ে ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি হলেও রোগীর চাপে বেড না পেয়ে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। তবে সন্তানরা এখন একটু আগের থেকে সুস্থ আছে।”
ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এমদাদুল হক সামীম বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তাই শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।