রোববার দেশটির শীর্ষ সরকারি আইন কর্মকর্তা জানান, ভয়াবহ নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যাওয়া কিছু প্রত্যক্ষদর্শী মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে তারা কথাই বলতে পারছেন না।
কিইভের আশপাশের কিছু এলাকা থেকে রাশিয়ার বাহিনীগুলোকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ইউক্রেইনের রাজধানী থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরের মুক্ত শহর বুচার মেয়র জানিয়েছেন, এলাকাটি চেচেন যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় রাশিয়ার বাহিনীগুলো ৩০০ বাসিন্দাকে হত্যা করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুচায় বেসামরিকদের হত্যা করার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, কোনো বাসিন্দা রাশিয়ার বাহিনীগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হয়নি। কিইভ পশ্চিমা গণমাধ্যমের উস্কানিতে একটি নাটক মঞ্চস্থ করছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে মস্কো।
ইউক্রেইনের অ্যাটর্নি জেনারেল ইরিনা ভেনেদিকতোভা জানিয়েছেন, ইউক্রেইনের সরকারি কৌঁসুলিরা রোববার প্রথমবারের মতো বুচা, এরপিন ও হস্তোমেল শহরে প্রবেশ করতে পেরেছে তাই অপরাধের পুরোটা উদ্ঘটনে তাদের আরও সময় লাগবে।
“প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। মানুষ আজ এতই মানসিক চাপে আছে যে তারা কথা বলতে পারছেন না,” বলেছেন ভেনেদিকতোভা।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৪০টি মৃতদেহ পরীক্ষা করা হয়েছে কিন্তু তিনি কিইভ অঞ্চলের একটি ফিল্ড হাসপাতালে যতজন সম্ভব ফরেনসিক বিশেষজ্ঞকে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলবেন।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “কয়েকশ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বেসামরিকদের নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে আছে। এলাকাগুলোতে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এমনটি মৃতদের লাশগুলো মাইন দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
জেলেনস্কি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নতুন এক সেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে এটি পরিষ্কার, কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয়।
ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেনিস মোনাসতেরেস্কি জানিয়েছেন, কয়েকশ বেসামরিককে হত্যা করা হয়েছে এটি পরিষ্কার। কিন্তু ওই এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ চলতে থাকায় সেখানে ঠিক কতোজনকে হত্যা করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাতে চাননি তিনি।
“স্থানীয় অনেক বাসিন্দাকেই নিখোঁজ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা প্রকৃত সংখ্যা বলতে পারবো না, তবে অনেক মানুষ,” বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
যদি এমন হয়, পুতিন আসলে হিসাবে ভুল করেননি?
বুচায় ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাযজ্ঞ’ চালিয়েছে রুশ বাহিনী: ইউক্রেইন