সোমবার
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত
টাস্কফোর্স কমিটির প্রথম সভা শেষে তিনি একথা জানান।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নানা উদ্যোগের পর এ মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য নিয়ে কাজ করে সেগুলোর
অধিকাংশের দাম এখন স্থিতিশীল বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এসময় সবজি-ফলসহ
অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনে সড়কে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুক্ষণ
আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। এখানে আজ (সোমবার) বিস্তারিত আলোচনা
হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি এটি নিয়ে কথা বলেছেন।
“তিনি
(স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন
জায়গায় চাঁদাবাজি করছে। সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কোথায়
কোথায় চাঁদাবাজি হয়- সে বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।”
বাজার ঘুরে ‘পজিটিভ নিউজ’ চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
বিশ্ব বাজারে
ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও সরকার ভ্যাট কমিয়ে ও নজরদারি করে দেশের বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
করতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর।
“চিনির
বাজার স্থিতিশীল আছে। ভোজ্যতেলও লিটারপ্রতি ১৫৮ টাকা ১৫৯ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
২৬ মার্চ ভ্যাট প্রত্যাহারের পর ৯০ হাজার টন ভোজ্যতেল আসছে। দেশে মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত।”
বৈঠকে টাস্কফোর্সের
বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
>>
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুদদারের বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো।
>>
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ অগ্রাধিকারভিত্তিতে
সহায়তা দেবে।
>>
খুচরা পর্যায়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং প্রতিটি ধাপে পাকা রশিদ সংরক্ষণের বিষয়টি
নিশ্চিত করা।
>>
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহ আদেশ (এসও) প্রদান এবং প্রকৃত ডিলার ছাড়া অন্য কারও কাছে
হাতবদল হওয়া এসও এর মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ না করা।
>>
ভোজ্যতেল কেনাবেচায় পাইকারি থেকে খুচরা সব পর্যায়ে পাকা রসিদ (প্রতিষ্ঠানের নাম ও
ঠিকানাসহ মুদ্রিত তথ্য) প্রদান নিশ্চিত করা।
>>
ভোজ্যতেলের মিলগেইট, পরিবেশক ও ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ, সঠিকভাবে প্রদর্শন
ও বাস্তবায়ন।
>>
ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিলের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ, পরিশোধনের পরিমাণ ও পরিবেশকদের
কাছে সরবরাহের পরিমাণে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না তা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে
নিশ্চিত করতে বলা হয়।
>>
মিলগুলোকে পরিবেশক নিয়োগ সংক্রান্ত হালনাগাদ তালিকা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ
কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে
হবে।