ক্যাটাগরি

প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু 

দুর্নীতি দমন কমিশনের এই মামলায় এর আগে আরেক আসামি প্রদীপের স্ত্রী
চুমকি কারণের বিরুদ্ধে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

কিন্তু উচ্চ আদালতে প্রদীপের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের
বিপরীতে করা একটি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় সেদিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ
হয়নি।

সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে এ
মামলায় তিন সাক্ষীকে রিকল (পুনঃতলব) করা হয়। আদালতে আসামির আইনজীবী তিন সাক্ষীকে
জেরা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাক্ষী হিসেবে তিনজন
আয়কর কর্মকর্তা আজ এসেছিলেন। মামলার আগামী ধার্য দিন ৭ এপ্রিল।”

প্রদীপ ‍কুমার দাশের আইনজীবী রতন চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, “হাই কোর্টে প্রদীপ কুমার
দাশের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ গঠন না করতে যে আবেদনটি আমরা আগে করেছিলাম সেটির
বিষয়ে পরে `নট প্রেস’ (অনাগ্রহ) জানিয়েছি।

“বিষয়টি চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতকে
অবহিত করলে ল’ইয়ার সার্টিফিকেট দিতে বলেন।
সেটাও দিয়েছি। ইতিমধ্যে এ মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়ে গেছে। যেহেতু প্রদীপ
কুমার দাশের অনুপস্থিতিতে ওই সাক্ষ্য হয়েছিল তাই তাদের রিকল করতে বলেছিলাম।
এরমধ্যে তিনজন আজ উপস্থিত হলে তাদের আমরা জেরা করেছি।”

প্রদীপ কুমার দাশকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে চট্টগ্রাম
কারাগারে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম চলে।

দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের এ মামলার দুই আসামি প্রদীপ কুমার দাশ
ও তার স্ত্রী চুমকি কারণ। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুজনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ
গঠন করা হয়। পলাতক চুমকির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয় সেদিন।

তার আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ করে
আদালত।

২০২১ সালের ২৮ জুলাই দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর
সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে
মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত অর্জন ও
অন্যকে হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয় অভিযোগপত্রে। এতে মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই
রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা।

ওই মামলায় গত ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা আদালতের রায়ে প্রদীপ কুমার
দাশের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়।

ওসি প্রদীপ: খুনের সঙ্গে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ছিল যার ‘নেশা ও পেশা’