ক্যাটাগরি

বিতর্কিত গোলে ইউভেন্তুসের অজেয় যাত্রা থামাল ইন্টার

প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার রাতে সেরি আর ম্যাচে খেলার ধারার বিপরীতে হাকান কালহানোগ্লুর একমাত্র গোলে জিতেছে ইন্টার।

পুরো ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে থাকা ইউভেন্তুস গোলের উদ্দেশে ২২টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে ইন্টারের পাঁচ শটের একটিই মাত্র লক্ষ্যে থাকে এবং সেটিতেই সফল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকে শিরোপাধারীদের ওপর প্রবল চাপ বাড়ানো ইউভেন্তুস প্রথম ৩০ মিনিটে গোলের উদ্দেশে ১১টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। এসময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত ইন্টার শট নিতে পারে কেবল একটি।

দুর্ভাগ্য বাঁধ না সাধলে নবম মিনিটে এগিযে যেতে পারতো স্বাগতিকরা। হুয়ান কুয়াদরাদোর ক্রস কোনোমতে ফিস্ট করে ফেরান গোলররক্ষক, কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। জটলার মধ্যে জর্জো কিয়েল্লিনির প্রচেষ্টা ক্রসবারে লাগলে বেঁচে যায় ইন্টার।

চার মিনিট পর আবারও কঠিন পরীক্ষা দেন সামির হান্দানোভিচ। এবারও কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার কুয়াদরাদোর শট ফিস্ট করে ফেরান স্লোভেনিয়ার গোলরক্ষক। ষোড়শ মিনিটে আলভারো মোরাতার ব্যাক-পোস্টে নেওয়া হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

খেলার ধারার বিপরীতে বিরতির আগে ঘটনাবহুল এক পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় ইন্টার। ৪৩তম মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিস ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। তবে এর প্রবল প্রতিবাদ জানায় ইউভেন্তুস।

কালহানোগ্লুর স্পট কিক ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি। ফিরতি বল জটলার মধ্যে দুই দলের কাড়াকাড়ির পর ইউভেন্তুস মিডফিল্ডার আদ্রিওঁ রাবিও বুটে লেগে জালে জড়ায়। যদিও ফ্রি কিকের বাঁশি বাজান রেফারি।

ইউভেন্তুস হাফ ছাড়ার নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই আবারও দৃশ্যপটে ভিএআর। স্পট কিক নেওয়ার আগে ইউভেন্তুসের খেলোয়াড়রা বক্সে ঢুকে পড়ায় বাতিল হয় প্রথম স্পট কিক। দ্বিতীয়বারে আর কোনো ভুল করেননি তুরস্কের মিডফিল্ডার কালহানোগ্লু।

গোল পেয়েও উজ্জীবিত হতে পারেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রেখে খেলতে থাকে তারা। এই অর্ধে পাওয়া দিবালা ও দুসান ভ্লাহোভিচ সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর দেনিস জাকারিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন হান্দানোভিচ।

অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের হতাশায় মাঠ ছাড়ে সেরি আর সফলতম দলটি।

ইন্টারের ভীষণ কষ্টে পাওয়া এই জয়ে শিরোপা লড়াই আরও জমে উঠেছে। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের সঙ্গে এখন তাদের ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্টের।

৩০ ম্যাচে ২০ জয় ও ৬ ড্রয়ে এসি মিলানের পয়েন্ট ৬৬। ৩১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে নাপোলি।

মিলানের সমান ৩০ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট ইন্টারে। খুব বেশি পিছিয়ে নেই ইউভেন্তুসও। ৩১ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৫৯।

গত নভেম্বর থেকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে কেবল দুটি দল অপরাজিত ছিল। আরেক অপরাজিত দল লা লিগার সেভিয়া। প্রায় একই সময়ে শুরু হওয়া স্পেনের শীর্ষ লিগের ম্যাচে হেরে গেছে তারাও।