ক্যাটাগরি

বিবিয়ানায় ত্রুটি: গ্যাস সঙ্কট কাটতে ‘আরও এক দিন’

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রটিতে ৬টি কূপে সমস্যা দেখা দেওয়ায় রোববার সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও লাগে ধাক্কা। ফলে রোজার প্রথম দিন জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ে।

সোমবার সারাদিনও একই অবস্থা চলার পর রাতে যোগাযোগ করা হলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবার রাতেই সঙ্কট কেটে যাবে।

গ্যাসের এই ‘সাময়িক’ সঙ্কটের কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। 

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান নাজমুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মোট ৬টি কূপে সমস্যা হয়েছে।

“একটি কূপ থেকে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে প্রায় ৭০ মিলিয়নের মতো। আমরা আশা করছি, আজকে রাতের মধ্যে আরও দুইটা উৎপাদনে আসবে। আরেকটা কূপও প্রস্তুত আছে বলে বলা হচ্ছে বা তারা রাতের প্রস্তুত করতে পারবে। কালকে রাতের মধ্যে পাঁচটি কূপই প্রস্তুত হয়ে যাবে। শুধু একটা কূপে সমস্যা থাকবে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে মোট ২৬টি কূপ রয়েছে। এরমধ্যে একটি কূপটি থেকে বালি বের হওয়ায় আরও পাঁচটি কূপ ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে পেট্রোবাংলা থেকে বলা হচ্ছে।

দেশে উৎপাদিত গ্যাসের ৪০ শতাংশের বেশি আসে বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র থেকে। প্রতিদিন এই গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৬টি কূপ থেকে আসে ৪২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

এদিকে আমদানি করা এলএনজি এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরেই এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে।  

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি ভর্তি কার্গো ভিড়বে। এই মাসেই মোট ৮টি কার্গো আসবে।

“এলএনজি থেকে প্রতিদিন ৮০০ মিলিয়নের উপর গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে আমরা আশা করছি। রোজার মধ্যে গ্যাসের সঙ্কট থাকবে না।”

রোজায় ভোগান্তি

রোববার সমস্যা শুরুর পরই গৃহস্থালিতে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের ঘাটতি দেখা যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের খবরও এসেছে।

চুলায় গ্যাস না থাকায় রোজার প্রথম দিন ইফতার ও সেহরি রান্নার জন্য অনেককে বৈদ্যুতিক চুলায় (ইনডাকশন) রান্না করতে হয়। ঢাকা শহরে কাঠের চুলায় রান্নার ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছেড়েছেন কেউ কেউ। আবার বাসায় রান্নার বদলে দোকান থেকেও খাবার আনিয়ে খেতে হয় কাউকে কাউকে।

ঢাকার মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে রোববার সকাল থেকেই গ্যাস নেই। এ কারণে এই এলাকার অধিকাংশ মানুষকেই ইফতার কিনে খেতে হয়েছে।

এই এলাকার ‘ডি’ ব্লকের বাসিন্দা সাহানা কাদের সোমবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল সকাল থেকে গ্যাস নাই। আজকে দুপুরে একটু এসেছিল। পরে বিকালেই আবার চলে গেছে। এখন একেবারেই গ্যাস নেই।”

গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম রোজায় ইফতারিও বানাতে পারিনি বাসায়। বাইরে থেকে কিছু ইফতারি কিনে আনতে হয়েছে। রাতের আর সেহরির খাবার ইনডাকশনে রেঁধেছি।

“আমাদের এলাকায় শুধু এখন না, সবসময়ই গ্যাসের সমস্যা থাকে। মাসশেষে গ্যাসের বিল ঠিকই দিতে হয়। কিন্তু গ্যাস পাই না আমরা। এটা নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যাথাও নাই।”

এই এলাকার আরেক বাসিন্দা ফরিদা পারভীন বলেন, “রাইস কুকারে ভাত রান্না করেছি, আর মেয়ে তরকারি দিয়েছে সেটা দিয়ে চালিয়েছি কোনো রকম। আর যা লাগছে, কিনে আনছি। এভাবে কতদিন চলতে পারব? সরকারের দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা উচিৎ।”

খিলগাঁও তালতলার বাসিন্দা সাজিয়া আফরিন জানান, রোববারের মতো সোমবারও চুলায় গ্যাস আসছে না। কখনও একটু এলেও থাকছে না বেশিক্ষণ।

“রোজার মধ্যে সারাদিন অফিস করার পর রাতে রান্না করতে আসি। কিন্তু গ্যাস না থাকায় ভোগান্তির আর শেষ থাকছেনা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তির শেষ থাকবে না,” বলেন সাজিয়া।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোববার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে বলে উল্লেখ করা হলেও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানিতে ঘাটতির তথ্য নেই।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১১ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট, বিকালের পিক আওয়ারের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। সেই সময় সর্বোচ্চ চাহিদাও ছিল ১৩ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট।

এর আগের দিন শনিবার দিনের বেলায় সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮১১ মেগাওয়াট। ওই দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে বিকালের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৭১৮ মেগাওয়াট।